মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
রামগড়ে ভোট কেন্দ্রের শৃঙ্খলা-রক্ষার্থে কর্মকর্তা দের মাঝে মেগাফোন বিতরণ রাজবাড়ীতে ভোট কেন্দ্র সংস্কারে ভয়াবহ অনিয়ম লালমনিরহাটে হেলিকপ্টার মাধ্যমে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ ও সহিংসতা রোধে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো কতৃক উদ্ধার লালমনিরহাট ২ সংসদীয় আসনের ১৬ ইউনিয়নের জনতার দলের কলম প্রতীক নিয়ে এগিয়ে রয়েছে জনতার দল মোটা প্রার্থী ৭ জন জীবননগরে বাবু খানরে নেতৃত্বে বিএনপির গণমিছিলে জনতার ঢল রাজবাড়ীতে জামায়াতের গণমিছিল-সমাবেশ জন সমুদ্রে পরিনত পানুয়াছড়া সীমান্তে রামগড় বিজিবির অভিযানে ২৪ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ খাগড়াছড়িতে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা ভোলায় জামায়াতের সন্ত্রাসী কর্তৃক হাতপাখার নেতাকর্মীদের উপর নৃশংস হামলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি ঝিনাইদহ-৪ জামায়াতের বিশাল নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত।

রাজবাড়ীতে ভোট কেন্দ্র সংস্কারে ভয়াবহ অনিয়ম

এম মুনিরুজ্জামান, রাাজবাড়ী প্রতিনিধি।
  • আপডেটের সময়: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৯ সময় দেখুন
রাজবাড়ীতে ভোট কেন্দ্র সংস্কারে ভয়াবহ অনিয়ম

রাজবাড়ীতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মেরামত ও সংস্কার খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সংস্কার ও মেরামতের জন্য এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে কোনো কাজই হয়নি বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে সারাদেশের ১২ হাজার ৫৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৪১ কোটি ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে একই বিদ্যালয়গুলোতে দ্বিগুণ বরাদ্দ দিয়ে আরও ৮২ কোটি ২৩ লাখ ৫২ হাজার ৬৪২ টাকা প্রদান করা হয়। এর অংশ হিসেবে জেলার ১৩৫টি বিদ্যালয়ের কেন্দ্র মেরামতের জন্য দুই ধাপে ১ কোটি ১ লাখ ৫৫ হাজার ২৭ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়।

এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৩৩ লাখ ৮৫ হাজার ৯ টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ৬৭ লাখ ৭০ হাজার ১৮ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। বালিয়াকান্দিতে ৩২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুকূলে প্রথম ধাপে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬৪ টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে একই বিদ্যালয়গুলোতে আরও দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১৮ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুই ধাপে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। গড়ে প্রতিটি বিদ্যালয় ৪০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ পায়।

বরাদ্দের শর্ত অনুযায়ী বিদ্যালয় ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষ, দরজা-জানালা, বেঞ্চ-ডেস্ক, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ ও পানির লাইনের জরুরি সংস্কার করার কথা থাকলেও অনুসন্ধানে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। অনেক বিদ্যালয়ে কোনো জরুরি সংস্কার প্রয়োজন না থাকায় বিধিলঙ্ঘন করে নতুন নতুন মালামাল কেনার নামে ভুয়া বিল-ভাউচার করে শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট থেকে অনুমোদনের পায়তারা করছে। কেউ কেউ বলেছেন এরই মধ্যে শিক্ষা কর্মকর্তা ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে অনুমোদনের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেশিরভাগ বিদ্যালয়গুলো তাদের কেনাকাটার মধ্যে এলইডি বাল্প, সিটকিনি, হ্যাজবোল্ড, হারপিক, বালতি, ইলেক্ট্রনিক ফিটিংস, বৈদ্যতিক তার, ইট , বালু, সিমেন্ট ও মাটিসহ বিভিন্ন জিনিস ক্রয়, জানালা-দরজা মেরামত, টয়লেট পরিষ্কারের কথা উল্লেখ করেছেন। যা গত স্লিপ ফান্ড থেকে তারা এগুলো ক্রয় করেছিলেন বলে একাধিক শিক্ষক নাম গোপন রেখে নিশ্চিত করেছেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২৫০ টাকার এনার্জি বাল্ব হাজার টাকা দেখিয়ে ৫-১০টি এনার্জি বাল্ব কেনাকাটার বিল করা হয়েছে। একটি টিউবওয়েল মেরামতে ৪-৫ হাজার টাকা ব্যয়, বৈদ্যতিক মটর মেরামত ৪-৫ হাজার টাকা, কয়েকটি বিদ্যালয়ে অর্ধশত জানালা মেরামতের কথা শোনা গেলেও সরেজমিনে গিয়ে জানালা সংস্কারকাজের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সূত্রের দাবী অনুযায়ী সরেজমিনে গিয়ে সেসব প্রতিষ্ঠানে গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি ক্রয়কৃত মালামাল। এছাড়া কিছু বিদ্যালয়ে সংস্কারকাজের পরিবর্তে নতুন পণ্য কেনার বিল দেখানো হলেও বাস্তবে সেসব পণ্যের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

রাজবাড়ী বালিয়াকান্দি উপজেলার নওপাড়া সরকারি বালক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচন উপলক্ষে দুই ধাপে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। প্রথম ধাপে পেয়েছিল ২০ হাজার টাকা। সেই টাকায় তিন হাজার টাকায় টয়লেট পরিষ্কার, ইলেক্ট্রনিক মটর মেরামত বাবদ ৫ হাজার টাকা, আলমারির লক, সিটকিনি, হ্যাজবোল্ড, তালা ও আলমারির লক স্থাপনের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু টয়লেট পরিষ্কারের বিষয়টি দৃশ্যমান থাকলেও মটর মেরামতহর যেসব জিনিস ক্রয় করার কথা উল্লেখ করেছেন তা বাস্তবে দেখাতে পারেননি প্রতিষ্ঠানটি।

নওপাড়া সরকারি বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন নাহার জেসমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি বলেন, আমরা প্রথম ধাপের টাকা দিয়ে মটর মেরামত করেছি। টয়লেট সম্পূর্ন পরিষ্কার করা হয়নি। সিটকিনি, হ্যাজবোল্ডসহ অন্যান্য জিনিস ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, পোটরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নতুন সাবমার্সেবল পাম্প ক্রয়ের নামে ২০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি নতুন করে সাবমার্সেবল ক্রয়-স্থাপন করেননি। তবে পুরাতন একটি সংস্কার করা হয়েছে।

নওপাড়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে টিউবয়েল, দরজা-জানালা মেরামত, এলইডি বাল্প ও বৈদ্যতিক ফিটিংস ক্রয়ের কথা বলে টাকা তুললেও টিউবয়েল মেরামতে নামে একটি নতুন টিউবয়েল দৃশ্যমান রয়েছে। এছাড়া বাকি জিনিসের কোন হদিস পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) মোছা. রেবেকা সুলতানা বলেন, বিদ্যালয়ের টিউবয়েলটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় একটি নতুন টিউবয়েল কেনা হয়েছে। অন্য জিনিসগুলো কাজ শেষ হয়নি। এটা চলমান রয়েছে।

একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে নতুন দরজা কেনার বিল দেখানো হলেও বিদ্যালয়টিতে গিয়ে নতুন কোনো দরজা স্থাপনের সত্যতা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় শিক্ষক ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো দরজাটিই ব্যবহার করা হচ্ছে। একটি বিদ্যালয় ৫ ব্যাগ সিমেন্ট ক্রয়ের বিল দাখিল করেছেন, বাস্তবে ভাউচারের ঠিকানার দোকানে সিমেন্ট বিক্রিই হয় না।

একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সংস্কারের নামে যেসব মালামাল কেনা দেখানো হয়েছে, তার বেশিরভাগই বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে। কোন দোকান বা সরবরাহকারীর নামে বিল দেখানো হয়েছে, সে সম্পর্কেও তারা নির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে ভুয়া বিল তৈরি করে সিংহভাগ অর্থ আত্মসাৎ করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিক্ষকরা কাজ না করেই ইচ্ছামতো বিল-ভাউচার করেছেন।

এই অনুসন্ধানে নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দিয়ে একাধিক সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব শিক্ষক স্বীকার করেছেন, কাগজে-কলমে দেখানো অধিকাংশ কাজ বাস্তবে হয়নি-হবেও না। তারা অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাদ্দকৃত অর্থের অর্ধেক টাকা তার জন্য রেখে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

একাধিক শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, অর্ধেক টাকা না দিলে বিল অনুমোদন আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বারবার মুঠোফোনে ফোন করা হচ্ছে। যার রেকর্ডও দেশ রুপান্তরের হাতে রয়েছে।

এক সহকারী শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের স্কুলে কোনো কাজই হয়নি, অথচ বিল-ভাউচারে অনেক কিছু দেখানো হয়েছে।

এই বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুন্নাহারকে মুঠোফোনে কল করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর সংযোগ বিছিন্ন করে দেন। পরে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান বলেন, এই বরাদ্দগুলো ভিন্ন ভিন্ন খাতে এসেছে। খাত অনুযায়ী এই অর্থ ব্যয় করবে প্রতিষ্ঠানগুলো। ভোটকেন্দ্র মেরামতের জন্য যে বরাদ্দ এসেছে তা নির্বাচনের আগেই ব্যয় করতে হবে। অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 রংধনুটিভি
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD