কিশোরগঞ্জ পৌরসভার চরশোলাকিয়া এলাকায় দীর্ঘদিনের ব্যবহারকৃত একটি চলাচলের রাস্তা দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক রাস্তা দখল করে চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চরশোলাকিয়া এলাকার এক স্থায়ী বাসিন্দা ১৯৭৪ সালে মালিকানা লাভ করে ১৯৮৫ সালে পৌরসভার অনুমোদনক্রমে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। তাদের প্লটে যাতায়াতের জন্য পূর্ব পাশ দিয়ে প্রায় ৪ ফুট ৬ ইঞ্চি প্রশস্ত একটি রাস্তা দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ওই রাস্তার মাধ্যমে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগও স্থাপিত হয়েছে এবং দলিলেও চলাচলের অধিকার উল্লেখ রয়েছে।
তবে সম্প্রতি পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণ ও পৌরসভার আওতায় অন্তর্ভুক্তির বিষয় সামনে আসলে দক্ষিণ পাশের প্লটের মালিক দিদারুল ইসলাম ওই রাস্তা তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে দাবি করেন। এ সময় পাশের প্লট মালিক মামুনের সহযোগিতায় রাস্তা দিয়ে চলাচলে বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী জানান, এ বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। পরে ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পৌর মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে মেয়র সংশ্লিষ্টদের ডেকে ভূমি পরিমাপের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ ও চলাচল উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দেন।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, নির্দেশনার পরদিনই দিদারুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা রাতারাতি রাস্তার একটি অংশ দখল করে এবং পূর্বের রাস্তার অংশ কমিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যান। এমনকি চলাচল বন্ধ করতে একটি দেয়াল নির্মাণ করা হয়।
পরে বিষয়টি জানানো হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনারের উপস্থিতিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় দেয়ালটি অপসারণ করে রাস্তা পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়। তবে গত বছরের শেষ দিকে পুনরায় একই স্থানে দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করা হয় এবং এতে বাধা দিলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে, অভিযোগ রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়িতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে কৌশলে পানি প্রবাহ তাদের বাড়ির দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং দখলকৃত অংশে টিনের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত ২৭ মার্চ ২০২৬ বিকেলে ভুক্তভোগীর জমিতে অবৈধভাবে মাটি ফেলার সময় বাধা দিলে অভিযুক্তরা পুনরায় তাকে হুমকি প্রদান করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।