দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় স্বার্থে সচেতনতায় সম্প্রীতি বার্তার লিফলেট বিতরণ,পথসভা কর্মসূচি নিয়ে খাগড়াছড়িতে সিএইচটি জোটের সংবাদ সম্মেলন। রবিবার ১৮ জানুয়ারী সকালে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আয়োজনে সংবাদ সংম্মেলন অনু্ষ্ঠিত হয়। সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের মুখপাত্র, পাইশিখই মারমা বলেন, আজ আমরা অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, আপস কিংবা নীরবতা আর সহ্য করা হবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি চিহ্নিত দেশবিরোধী, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ষড়যন্ত্রকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত ভাবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, উসকানি ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এই অপশক্তি সরাসরি বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর আঘাত হানছে। আমরা জোরালোভাবে ঘোষণা করছি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অংশ ছিলো এবং থাকবে। এই সত্যকে অস্বীকার করার সাহস দেখালে তার রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইনগত পরিণতি ভোগ করতে হবে। যারা বিদেশি স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের প্রতি সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের বার্তা অত্যন্ত পরিষ্কার এই মাটিতে রাষ্ট্রবিরোধী রাজনীতির কোনো জায়গা নেই। এই প্রেক্ষাপটে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহতের লক্ষ্যে সচেতনতা বার্তা সম্পন্ন লিফলেট বিতরণ ও পথসভা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই কর্মসূচি কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয় এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিরোধ। জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা প্রতিটি পাড়া, গ্রাম ও পথে পথে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের মুখোশ উন্মোচন করব। আমরা প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিতে চাই যদি দেশবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে গড়িমসি করা হয়, তাহলে জনগণ নিজেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব রাষ্ট্র রক্ষা করা, কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে রক্ষা করা নয়। এখনই সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার রাষ্ট্রের পক্ষে নাকি রাষ্ট্রবিরোধীদের পক্ষে। আমরা রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও দেশের সচেতন নাগরিকদের আহ্বান জানাচ্ছি নীরবতা ভাঙুন। আজ যারা চুপ থাকবে, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না। সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কোনো মধ্যপন্থা নেই, কোনো আপস নেই। সিএইচটি সম্প্রীতি জোট পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিচ্ছে এই আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হবে, কিন্তু অবস্থান হবে আপসহীন। দেশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি রক্ষায় আমরা প্রয়োজনে রাজপথে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে দ্বিধা করব না। বাংলাদেশের মাটিতে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র চলবে না এই শপথ নিয়েই আমরা মাঠে নামছি। সিএইচটি সম্প্রীতি জোট আহ্বায়ক, থোয়াইচিং মং চাক বলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশে অংশ কিন্তু বাস্তবতায় এই অঞ্চলকে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে অবহেলা, বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার করা হচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের মতো মৌলিক অধিকার থেকে পার্বত্যবাসীকে বঞ্চিত রেখে কোনোভাবেই জাতীয় অগ্রগতি বা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার কথা বলা যায় না। এই ব্যর্থতা শুধু প্রশাসনিক নয়, এটি একটি রাজনৈতিক দায় ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার নগ্ন প্রকাশ। শিক্ষা খাতে পার্বত্য চট্টগ্রামের চিত্র ভয়াবহ পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই, নেই যোগ্য শিক্ষক, নেই আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা। দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরা আজও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। বহু বিদ্যালয় অবকাঠামো গতভাবে জরাজীর্ণ, আবার কোথাও বছরের পর বছর শিক্ষক সংকট চলমান। এর ফলশ্রুতিতে একটি সম্পূর্ণ প্রজন্মকে ইচ্ছাকৃত ভাবে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে যা ভবিষ্যতে আরও গভীর সংকট সৃষ্টি করবে। স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা আরও করুণ ও লজ্জাজনক। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসম্মত হাসপাতাল, চিকিৎসক, নার্স ও ওষুধের চরম সংকট বিদ্যমান। সাধারণ রোগের চিকিৎসার জন্য মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। জরুরি চিকিৎসা সেবা না পেয়ে অকাল মৃত্যু এখানে যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে এই বাস্তবতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উন্নয়নের নামে পার্বত্য চট্টগ্রামে যা হচ্ছে, তা প্রকৃত উন্নয়ন নয়, এটি বৈষম্য, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার আরেক নাম। পরিকল্পনাহীন প্রকল্প, স্বার্থান্বেষী মহলের দৌরাত্ম্য এবং স্থানীয় জনগণকে উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া উন্নয়ন কখনোই টেকসই হতে পারে না। উন্নয়ন যদি জনগণের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন না আনে, তবে সেই উন্নয়ন অর্থহীন ও প্রতারণামূলক। সিএইচটি সম্প্রীতি জোট স্পষ্টভাবে বলতে চায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন কোনো রাজনৈতিক দয়ার বিষয় নয়, এটি পার্বত্যবাসীর সাংবিধানিক ও ন্যায্য অধিকার। এসব খাতকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ক্ষমতার হিসাব মেলানো চলবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রকৃত শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা চাইলে রাষ্ট্রকে এখনই দায়িত্বশীল ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছি অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, দক্ষ ও স্থায়ী জনবল নিয়োগ, এবং সকল উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও স্থানীয় জনগণের বাস্তব অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এই অবহেলা ও বৈষম্যের দায় রাষ্ট্রকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। সিএইচটি সম্প্রীতি জোট দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে সমতা, ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই শান্তি ও অগ্রগতি কখনোই সম্ভব নয়। আমরা এই ন্যায্য দাবিতে রাজপথে, সমাজে ও রাষ্ট্রীয় পরিসরে আমাদের অবস্থান আরও শক্তভাবে তুলে ধরতে বাধ্য হবো। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দৈনিক পার্বত্যকন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক শাহীন আলম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন, বান্দরবান জেলা কমিটি জিরা বাবু তঞ্চগ্যা, খাগড়াছড়ি জেলা কমিটি ইসমাইল হোসেন, মোকতার হেসেন সমাজকর্মী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।