হোসেনপুর উপজেলায় আসন্ন উপজেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-প্রত্যাশা ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে একাধিক সম্ভাব্য নাম আলোচনায় এলেও সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক সংগঠক জহিরুল ইসলাম মবিন-এর নাম।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতার রয়েছে সংগঠন পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। ইতিপূর্বে তিনি হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সূত্রে জানা যায়, হোসেনপুরের দুঃসময়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ রেখে দলীয় কর্মকাণ্ড সচল রাখতে গিয়ে তিনি একাধিক রাজনৈতিক মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন। এরপরও তিনি দলের আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হননি বলে দাবি করেন তার ঘনিষ্ঠরা।
এছাড়াও তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এই অঞ্চলে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় জহিরুল ইসলাম মবিনকে এগিয়ে রাখছেন অনেকেই। অতীতে বিভিন্ন দুর্যোগের সময় ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সংগঠনের মাধ্যমে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তার একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলেন, “দলকে সুসংগঠিত করা, ত্যাগ স্বীকার করা এবং দীর্ঘদিন মাঠে থেকে রাজনীতি করার অভিজ্ঞতা—সব দিক বিবেচনায় জহিরুল ইসলাম মবিন একজন পরীক্ষিত নেতা। তাকে উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।”
এছাড়া ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও সচেতন মহলের একাংশও মনে করেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি এলাকার সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার ও অবকাঠামো উন্নয়নে যাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে, তাদের মধ্য থেকে প্রশাসক নির্বাচন করা হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে জহিরুলইসলাম মবিনকে একজন সম্ভাব্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন তারা।
একাধিক নেতাকর্মী জানান, “দল ও জনগণের দুঃসময়ে পাশে থাকা একজন পরীক্ষিত নেতা হচ্ছেন জহিরুল ইসলাম মবিন। তাকে উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে এলাকার উন্নয়ন, সুশাসন এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।”
তবে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে কে হচ্ছেন হোসেনপুর উপজেলা পরিষদের পরবর্তী প্রশাসক।