ময়মনসিংহের সাবেক এসপি,বাংলাদেশ পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মঈনুল হক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ একর জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানায়,আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার থাকাকালে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিমালিকানাধীন ও ফুলবাড়িয়া বন বিভাগের জমি জবরদখল করেন। স্থানীয়ভাবে এই প্রকল্পটি ‘এসপি গরুর ফার্ম’ নামে পরিচিতি পায়। সূত্র জানায়, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্তে একটি বিশেষ অনুসন্ধানী টিম গঠন করা হয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১ শাখার উপপরিচালক রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে অনুসন্ধান শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জানা যায়, সম্প্রতি ডিআইজি মঈনুল হকের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহে দায়িত্বপালনকালে প্রায় ১০০ একর জমি দখলের অভিযোগ জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় কমিশন এটি আমলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে। সূত্র আরও জানায়, ডিআইজি মঈনুলের সঙ্গে বিতর্কিত সাবেক ডিবি প্রধান হারুন-অর-রশিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তার মাধ্যমেই তিনি ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান এবং খুলনা রেঞ্জের দায়িত্ব পেতেও সহায়তা নেন। সূত্র জানায়, মঈনুল হক (সাবেক পুলিশ সুপার, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জ এবং সাবেক ডিআইজি, খুলনা রেঞ্জ) ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিমালিকানাধীন ও বন বিভাগের জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ ও বিধিমালা, ২০০৭ অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুদকের সূত্র জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় কমিশন ইতোমধ্যে উন্মুক্ত অনুসন্ধান শুরু করেছে। অনুসন্ধান কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা যায়, ২০২২ সালের নভেম্বরে মঈনুল হক খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাকে ওএসডি করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গত বছরের ৭ আগস্ট তাকে সারদা পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত করা হয়।