বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শেরপুরের কৃতি সন্তান ডা. আসাদুজ্জামানের চিকিৎসা সেবায় সকল নাগরিক ও রোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গোয়ালন্দে সোয়া কোটি টাকার সড়কে দুই মাসেই ধস, নিম্নমানের কাজের অভিযোগ রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার সহ ৭ কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্ণীতির মামলা দুই মাসের মধ্যে রংপুর মেডিকেল সার্বিক পরিবর্তন আনা হবে- দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী সরকার ও বিএনপিতে বড় রদবদলের আভাস ১০লাখ টাকার ড্রেন নির্মানের ৭ দিনের মধ্যেই ভেঙ্গে বন্ধ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নকলা পৌরসভা নির্বাচন প্রার্থীদের প্রচারণা শুরু রামগড় ৪৩ বিজিবির উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ আদিতমারী বুড়ির হাটের সরকারি জায়গা সিন্ডিকেটের দখলে, অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে চলছে হাট-বাজার, দ্রুত প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া দাবি বাজারের কতৃপক্ষের।

১০লাখ টাকার ড্রেন নির্মানের ৭ দিনের মধ্যেই ভেঙ্গে বন্ধ

মুনীরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি।
  • আপডেটের সময়: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
  • ১৯০ সময় দেখুন
রাজবাড়ীতে ১০লাখ টাকার ড্রেন নির্মানের ৭ দিনের মধ্যেই ভেঙ্গে বন্ধ

রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের কাউরিয়া বিল ও পারের তিনটি গ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ড্রেন নির্মাণের মাত্র সাত দিনের মাথায় ধসে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে পড়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, নির্মাণসামগ্রীর ত্রুটি নয়, মিস্ত্রির কাজের ভুলের কারণেই ড্রেনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামকান্তপুর ইউনিয়নের কাউরিয়া, বসুপাড়া ও ধেরওয়িল গ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বিবিজি (BBG) বিশেষ কিস্তির আওতায় প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। কোন রকম রড ও পিলার ছাড়াই মোটা বালু দিয়ে
দায়সারাভাবে কাজ করায় সামান্য বর্ষণের পানির চাপেই ড্রেনটি ভেঙে পড়ে।

কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, “বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য সরকারি ১০ লাক টাকায় নিজ ব্যবস্থপনায় চেয়ারম্যান একটি ড্রেন নির্মাণ করে দেন। কিন্তু মাত্র সাত দিনের মধ্যেই সেটি ধসে পড়ে। এখন বৃষ্টির পানি মাঠে জমে থাকায় আমরা চাষাবাদ করতে পারছি না।”

আরেক কৃষক মোজাহার হোসেন বলেন, “এ এলাকায় প্রায় ৫০০ একর জমি রয়েছে। জলাবদ্ধতা দূর করার উদ্দেশ্যে ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ধসে যাওয়ায় আবারও জমিতে পানি জমে আছে। এতে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।”

এদিকে, নির্মাণকাজে যুক্ত এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চেয়ারম্যান প্রায় প্রতিদিনই কাজের স্থানে উপস্থিত থাকতেন এবং তাঁর নির্দেশনাতেই পুরো কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, চেয়ারম্যানের নিজস্ব ইটভাটার নিম্নমানের ইট নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে রামকান্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজিব মোল্লা বলেন, “আমি নির্মাণসামগ্রীর ক্ষেত্রে কোনো কার্পণ্য করিনি। মিস্ত্রির কাজের ত্রুটি থাকতে পারে। ড্রেনটি যেহেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপমা রায় বলেন, “ড্রেন ধসে পড়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। উপজেলা প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে অনিয়ম বা অবহেলার প্রমাণ মিললে চেয়ারম্যানসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

উল্লেখ্য, কাউরিয়া, বসুপাড়া ও ধেরওয়িল গ্রামের মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ। প্রতিবছর বর্ষা ও শীত মৌসুমে ৬ মাস যাবৎ জলাবদ্ধতার কারণে শত শত একর জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি কার্যকর ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। কিন্তু নির্মাণের মাত্র সাত দিনের মাথায় সেটি ধসে পড়ায় সেই আশা ভেঙে গেছে। ফলে জলাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য ফসলহানির শঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এলাকার কৃষকরা।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 রংধনুটিভি
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD