সৎ মায়ের নির্যাতনের অভিযোগে সাত মাস আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল ১২ বছরের কিশোর রায়হান উদ্দিন। চুল কাটার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে বাসে কক্সবাজার যায় সে। পরে সেখান থেকে একটি চক্র তাকে ঢাকায় নিয়ে যায় বলে জানিয়েছে রায়হান। তার দাবি, ঢাকায় নেওয়ার পর চক্রের সদস্যরা তার ডান পা কেটে দিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে বসিয়ে ভিক্ষা করতে বাধ্য করে। প্রতিদিন ভিক্ষা করে ৫০০ টাকা করে চক্রের সদস্যদের দিতে হতো বলেও দাবি তার।
রোববার রাতে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নে ১৯ দিনব্যাপী চুনতি সীরত মাহফিলের সমাপনী অনুষ্ঠানে বাবার সঙ্গে দেখা হয় রায়হানের। মাহফিলের মাঠে তাকে ঘোরাফেরা করতে দেখে এক প্রতিবেশী বিষয়টি তার বাবা নাজিম উদ্দিনকে জানান। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ছেলেকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন তিনি।
রায়হান চুনতি ইউনিয়নের সাতগড় নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাজিম উদ্দিনের ছেলে। দীর্ঘ সাত মাস পর তার বাড়ি ফেরার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
রায়হানের বাবা নাজিম উদ্দিন বলেন, ছেলেকে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেছেন তিনি। সাত মাস আগে চুল কাটার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ছেলের এই পরিণতির জন্য যারা দায়ী, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান তিনি।
রায়হানের ভাষ্য, কক্সবাজার থেকে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পর চক্রের সদস্যরা তার ডান পা কেটে দেয়। এরপর তাকে কমলাপুর রেলস্টেশনে বসিয়ে ভিক্ষা করতে বাধ্য করা হয়। প্রতিদিন ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা থেকে ৫০০ টাকা চক্রের সদস্যদের দিতে হতো।
রায়হান আরও দাবি করেছে, তার মতো আরও কয়েকজন শিশুকে ওই চক্র ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার করছে। তবে চক্রের সদস্যদের কারও নাম বা পরিচয় সে জানে না বলে জানিয়েছে।
একপর্যায়ে কৌশলে ওই চক্রের কাছ থেকে বের হয়ে চুনতির সীরত মাহফিলে চলে আসে রায়হান। সেখানেই শেষ পর্যন্ত তার বাবার সঙ্গে দেখা হয়। সাত মাস পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নাজিম উদ্দিন।