লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার বাগদিরবাজার তালুক দুলালী আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া ঘর জবরদখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হামলার অভিযোগ উঠেছে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে। অভিযোগে জানাযায় আসামিরা ড্রিল মেশিন দিয়ে ঘরের দরজা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে বৃদ্ধা মা ও তার মেয়েকে মারধর করে আহত করার পর জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে ঘরটি দখলে নেওয়া এবং ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, রুপার অলংকার, সেলাই মেশিনসহ প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
হামলায় আহত বৃদ্ধা বুলবুলি বেগম ও তার মেয়ে রোজিনা বেগমকে উদ্ধার করে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বুধবার পর্যন্ত বুলবুলি বেগম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার মেয়ে রোজিনা বেগমকে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও নিজের সরকারি বরাদ্দের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ফিরতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী রোজিনা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, এ ঘটনায় আদিতমারী থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১৫ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে নামীয় আসামিরা হলেন—
১. ফজল হক (৩৫), ২. মকবুল হোসেন (৩৮), ৩. কেরামত আলী (৫৮), ৪. হযরত আলী (৬০), ৫. হাসান আলী (২৬), ৬. মোহর আলী (৩০), ৭. মমিনুল ইসলাম (২০), ৮. সাজেদা বেগম (৫৫), ৯. সুমি বেগম (৩০), ১০. শিউলি বেগম (৩০), ১১. আছিয়া বেগম (৪০), ১২. শহিতন বেগম (৩৫), ১৩. বাবু মিয়া (২৫) এবং ১৪. বাইজিদ মিয়া (২০)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১৫ জনকে অভিযোগে আসামি করা হয়েছে।
ড্রিল মেশিন দিয়ে দরজা কেটে প্রবেশের অভিযোগ বিবরণঃ
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, বাগদিরবাজার তালুক দুলালী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৫ নম্বর সরকারি ঘরে বৃদ্ধা বুলবুলি বেগম তার মেয়ে রোজিনা বেগমকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘরটি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে ড্রিল মেশিন দিয়ে ঘরের দরজা কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে বৃদ্ধা মা ও তার মেয়েকে এলোপাতাড়ি মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মা-মেয়েকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার পর অভিযুক্তরা জোরপূর্বক ওই সরকারি ঘরটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। একই সঙ্গে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, রুপার অলংকার, সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসা শেষে ঘরে ফিরতে পারছেন না রোজিনা বেগমঃ
হামলায় আহত রোজিনা বেগম চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও নিজের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ফিরতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
তার দাবি, সরকারি বরাদ্দ পাওয়া ঘরটি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ায় তিনি বর্তমানে আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, একটি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাসরত অসহায় পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের উচ্ছেদ এবং ঘর দখলের ঘটনায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় সহ মারপিট করে গুরুতর আহত করেছে।
তারা অবিলম্বে ঘরটি উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি হামলা ও ঘর দখলের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আদিতমারী থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি নাজমুস সাকিবের কাছে অভিযোগের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি সততা নিশ্চিত করেন ।