শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
তথ্য গোপন করে একাধিক পেশায় যুক্ত থাকার অভিযোগ, কাজির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ পাংশায় মালিককে রসমালাইয়ে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করে চুরি, ১৫ ভরি স্বর্ণ ও ২২০ ভরি রুপার গহনা উদ্ধার আদিতমারীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দখলের অভিযোগ, ড্রিল মেশিনে দরজা কেটে বৃদ্ধা মা-মেয়েকে পিটিয়ে আহত ফোর লেনের অপেক্ষায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা-প্রাণহানি একটি পা কেটে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামায় চক্র, দাবি কিশোর রায়হানের বিয়েতে বয়সের ব্যবধান কতটা গুরুত্বপূর্ণ, নাকি বোঝাপড়াই আসল? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে আসছে নতুন নিয়ম রামগড় পাতাছড়ায় পুকুরে পড়ে চার বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু খাগড়াছড়িতে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মতবিনিময়

পাংশায় মালিককে রসমালাইয়ে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করে চুরি, ১৫ ভরি স্বর্ণ ও ২২০ ভরি রুপার গহনা উদ্ধার

মুনীরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি।
  • আপডেটের সময়: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫৬ সময় দেখুন

রাজবাড়ীর পাংশায় জুয়েলারি দোকানে চুরির ঘটনায় ১৫ ভরি ১.৫৮ আনা স্বর্ণের ও ২২০ ভরি রুপার গহনা উদ্ধার করেছে পাংশা মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ওই জুয়েলার্সের কর্মচারী
খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটন (৫৯) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজবাড়ী পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তথ্য জানান পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।

এর আগে ভোর ৫টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গহনাগুলো উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটন পাংসা উপজেলার বাবুপাড়া গ্রামের মৃত খোন্দকার আব্দুল জলিলের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন জানান, এ ঘটনায় পাংশা মডেল থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটন ওই জুয়েলারি দোকানের কর্মচারী ছিলেন। পাওনা টাকা তুলে দেওয়ার কথা বলে তিনি অপর এক আসামির সহযোগিতায় দোকান মালিককে জলিলপাড়া এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে রসমালাইয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে তাকে অচেতন করার অভিযোগ রয়েছে।

এরপর দোকান মালিক অচেতন হয়ে পড়লে তার পকেট থেকে দোকানের চাবি নিয়ে লিটন দোকানে ফিরে আসেন। পরে অপর কর্মচারীকে কৌশলে বাইরে পাঠিয়ে আলমারি খুলে স্বর্ণ, রূপা ও নগদ টাকা নিয়ে যান। এরপর দোকানের চাবি আবার মালিকের পকেটে রেখে তাকে দত্ত মার্কেট মোড়ে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়।

জানা গেছে,
পাংশা উপজেলার নারায়ণপুর দত্ত মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নিউ মুসলিম জুয়েলার্স’ থেকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর আড়াইটা থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার মধ্যে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দোকান মালিক গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাংশা মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩২৮/৩৮১ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে দোকানের মালিক শহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, চোরেরা দোকান থেকে ২০টি স্বর্ণের আংটি, ১৬ জোড়া কানের দুল, ২০ জোড়া কানের পাশা দুল, চারটি গলার হার ও ১০টি স্বর্ণের চেইনসহ প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণ, ২০০ ভরি রুপার গহনা এবং নগদ ২ লাখ টাকা নিয়ে যায়। চুরি হওয়া মালামালের মোট মূল্য প্রায় ৬৫ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

তিনি আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে পাংশা থানার একটি দল গাজীপুরের কোনাবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার দেখানো স্থান থেকে ৩০টি স্বর্ণের আংটি, ১১টি চেইন, একটি সীতাহার, তিনটি পল, একটি চান, ২৬ জোড়া কানের দুল ও একটি ব্রেসলেটসহ মোট ১৫ ভরি ১.৫৮ আনা স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। এসব স্বর্ণালঙ্কারের আনুমানিক মূল্য ৩৩ লাখ ২১ হাজার টাকা।

এ ছাড়া ৫৮ জোড়া নুপুর, ৩৭টি চেইন, ছয়টি বাজু, চারটি ব্রেসলেট, ১৬ জোড়া হাতের চুড়ি, ৩২টি তাবিজ, ১৯ জোড়া কানের দুল ও ১৩টি চানসহ মোট ২২০ ভরি রৌপ্যালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামি আদালতে ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর আসামি ও অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ডিআইও-১ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম, জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুল ইসলাম, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 রংধনুটিভি
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD