মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
চুয়াডাঙ্গার জীবন নগরে সেনা হেফাজতে বিএনপির নেতার মৃত্যু, লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর হোসেনপুরে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও গৃহবধূকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলন লাখো ভক্তের সমাগমে আটরশিতে শুরু বিশ্ব উরস শরীফ শহীদ ওসমান হাদীর খুনিদের বিচার না হলে রাষ্ট্রকেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে -ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ত্রিশালে মসজিদ উন্নয়ন প্রকল্পে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: সংবাদ প্রকাশের পাঁচ মাস পর দুদকের অভিযান অপরাধীদের আশ্রয় দিতে দিতে ভারত এশিয়ার ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে – ইশা সভাপতি খায়রুল আহসান মারজান তজুমদ্দিনে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫ লালমনিরহাট সদর ৩ আসনে নেই কোন হেভিওয়েট প্রার্থী ২২ নেতার বহিষ্কার ও স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করলো বিএনপি বাছাইপর্ব বাতিল হয়েছে আলোচিত অনেক প্রার্থী

চুয়াডাঙ্গার জীবন নগরে সেনা হেফাজতে বিএনপির নেতার মৃত্যু, লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর

আজিজুর রহমান স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেটের সময়: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২১ সময় দেখুন
চুয়াডাঙ্গার জীবন নগরে সেনা হেফাজতে বিএনপির নেতার মৃত্যু, লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনাবাহিনীর অভিযানে আটকের পর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু (৫২) মারা গেছেন। গতকাল সোমবার দিবাগত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এর আগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাফিজা ফার্মেসির সামনে থেকে তাকে আটক করে বিএনপির কার্যলয়ের এক কক্ষে নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডাবলুর মৃত্যর পর রাত থেকেই জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও বিজিএমইএর সভাপতি এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন।
এদিকে আজ মঙ্গলবার সকালে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমীনের উপস্থিতিতে জীবননগর থানার পুলিশ শামসুজ্জামান ডাবলুর মরদেহের সুরতহাল করে।
প্রত্যক্ষদর্শী, বিএনপির নেতা-কর্মী ও পুলিশ সূত্র বলছে, গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল জীবননগর পৌর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে বেলা ১১টার দিকে ফের ঘটনাস্থলে আসেন জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও সাধারণ সম্পাদক, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী শরীফুজ্জামান ডাবলু। পরে তারা নেতা-কর্মীদের শান্ত করলে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে বিচারের আশ্বাসে বেলা দেড়টার দিকে তারা শামসুজ্জামান ডাবলু লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের উদ্দেশ্যে নিয়ে রওনা হন।
শামসুজ্জামান ডাবলু স্ত্রী জেসমিন আক্তার বলেন, আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। তাকে পরিকল্পতিভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার তিনটা মাসুম বাচ্চাকে এতিম করা হয়েছে। সঠিক বিচার চাই আমি, তারা কেন এভাবে হত্যা করল বিনা অপরাধে। যদি অপরাধী হয় তারে ধরে নিয়ে যাবে…কেনো মেরে ফেলা হলো তাকে। সাথে সাথে কেনো মেরে ফেলা হলো। আমাদের কেনো খবর দেওয়া হলো না আপনার হাসবেন্ট অপরাধী তাকে ধরেছি… আসেন। তারা পরিকল্পতিভাবে গুম করে তাকে হত্যা করেছে।
শামসুজ্জামান ডাবলু মেয়ে বাবার হত্যার বিচারের দাবি জানি বলেন, কেনো আমার আব্বুকে মারা হলো। কি অপরাধ ছিল আমার আব্বুর?
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও বিজিএমইএর সভাপতি এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বলেন, আমরা ইতিমধ্যে এক্টিং জিওসি ব্রিগেডিয়ার ওসমানীর সঙ্গে কথা হয়েছে। ওনি বলেছেন যে, আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ বিচার করা হবে। আমরা আইন অনুযাযী সব ব্যবস্থা নেব।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি এবং আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি এরকম একটি ঘটনাতে একজন মানুষের একজন নেতার মৃত্যু হয়েছে। আপনরা একটু ধৈয্য ধারণ কররু, আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে সবকিছু হবে। আমাদের বাহিনীর পক্ষ থেকে এবং সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ যে ব্যবস্থা নেওয়ার সেটা আমরা নেব।
চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ওনার মৃত্যুটা যদি হত্যাকাণ্ড হয় তাহলে তদন্ত করে কঠোর বিচার হবে। তদন্তে যদি প্রমাণ হয়ে এটা হত্যা কেউ রেহাই পাবে না। গতকার রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত প্রশাসের সর্বোচ্চ মহলের সঙ্গে কথা হয়েছে..এবং তারা বলেছে তদন্ত করে যদি জানা যায় এটা হত্যাকাণ্ড আইনগত সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাইকে ছাড় দেওয়া হবে না। এখন আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করতে চাই, বিচারের যে প্রক্রিয়া, বিচার করতে হলে প্রথমে সুরতহাল এবং ময়নাতদন্ত করতে হবে। এ বিষয়ে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 রংধনুটিভি
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD