সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে একজন যোগ্য, সাহসী ও প্রজ্ঞাবান নারী নেতৃত্ব দেখতে চান গোপালগঞ্জবাসী। সেই প্রত্যাশার কেন্দ্রে উঠে এসেছে গুণী লেখিকা, কলামিস্ট, সাংবাদিক, উপস্থাপিকা ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকা সাবরিনা বিনতে আহমেদ-এর নাম। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান ও স্মরণযোগ্য। যা তাঁকে রাজপথের একজন পরীক্ষিত ও আপসহীন নারী নেতৃত্ব হিসেবে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। সাবরিনা বিনতে আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণ বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সদস্য। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের পরিচালক এবং দৈনিক জনকণ্ঠ-এর অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সক্রিয়তার মাধ্যমে সাবরিনা বিনতে আহমেদ নিজেকে একজন সচেতন, দায়িত্বশীল ও দৃঢ়চেতা নারী নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি গোপালগঞ্জ-১ আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য ও জননেতা সেলিমুজ্জামান সেলিম এর সহধর্মিণী হলেও তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় কোনোভাবেই ব্যক্তিগত পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা, লেখালেখি, গণমাধ্যম ও রাজপথ, সব ক্ষেত্রেই তাঁর সক্রিয় ও স্বতন্ত্র উপস্থিতি তাঁকে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে সাবরিনা বিনতে আহমেদের মতো একজন শিক্ষিত, সাহসী ও আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নারীকে জাতীয় সংসদে পাঠানো হলে নারীর অধিকার, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নগুলো আরও জোরালোভাবে উপস্থাপিত হবে। তাঁদের ভাষায়, এটি কোনো একক এলাকার আবেগী দাবি নয়, এটি গোপালগঞ্জবাসীর ন্যায্য প্রত্যাশা। সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে এমন একজন প্রতিনিধিকে জাতীয় সংসদে দেখতে চায় সাধারণ মানুষ, যিনি শুধু প্রতিনিধিত্বই করবেন না, বরং জনগণের পক্ষে কথা বলবেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। এখন গোপালগঞ্জের প্রত্যাশা, দলীয় ও জাতীয় সিদ্ধান্তে এই যোগ্যতার যথাযথ স্বীকৃতি মিলুক এবং সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে সাবরিনা বিনতে আহমেদ জাতীয় সংসদে একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল কণ্ঠ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুন।
Author: admin
-

মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে উপজেলায় এগিয়ে যাচ্ছে রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ গঠনে নির্ভরযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে জেলা পর্যায়ে সুনামের সাথে পরিচিতি লাভ করেছে রামপুর উচ্চ বিদ্যালয় । ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি স্থাপিত হওয়ার পর থেকে এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করে আসছে। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন মৃত নূর জামাল। তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন ফারুক রেজাউল ইসলাম। ১.১৫ একর জমিতে গড়ে উঠা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২৭ জন শিক্ষক কর্মচারী মিলে মিশে শিক্ষার মান উন্নয়নে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকবৃন্দরা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন, যাতে তারা পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি , একজন ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়টিতে বর্তমান প্রধান শিক্ষক ফারুক রেজাউল ইসলাম গত ১০ ফেব্রুয়ারি২০১৬ সালে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তার নেতৃত্বে সকল শিক্ষক কর্মচারীদের সার্বিক সহযোগিতায় কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এলাকায় বর্তমানে উচ্চ পর্যায়ে সু-নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচিত । বিদ্যালয়টি ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ স্কাউট শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ স্কাউট দল ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে উঠেছে। ২০২৬ সালে উপজেলার গন্ডি পেরিয়ে ময়মনসিংহ জেলায় শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি খেলাধুলায় ও সহ পাঠ্যক্রমিক কার্যবলিতে বিভিন্ন পুরস্কার সহ বিভিন্ন দিবসে অংশ গ্রহণ করে পুরস্কারসহ শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়ে থাকেন। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত নজরুল জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে রামপুর উচ্চ বিদ্যালয় স্কাউট দলের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৭২২জন শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করছে। এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বহু শিক্ষার্থী সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই প্রতিষ্ঠান আরও এগিয়ে যাবে এটাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।
-

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক প্রদিতি রাউত প্রমার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ, বিভাগে তালা
ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের প্রভাষক প্রদিতি রাউত প্রমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের অর্থ চুরির অভিযোগ তদন্তের দাবিতে বিভাগীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছে ছাত্র ছাত্রীরা।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পঞ্চম তলায় বিভাগটিতে তালা ঝুলিয়ে তদন্তের দাবিতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা।
সূত্র জানায়,গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর বিভাগটির শিক্ষার্থীরা প্রভাষক প্রদিতি রাউত প্রমার বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে অর্থ গ্রহণ ও আর্থিক অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তিন দাবি উত্থাপন করে। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন, শাস্তি প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা মোতাবেক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন কোনো শিক্ষকের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার না হয় তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি করা হয়।
ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান রিমা জানান, শিক্ষার্থীরা তাদের সেমিস্টার ফাইনাল বা যেকোনো পরীক্ষা চলাকালীন ব্যাগ সামনে রাখলে সেখান থেকে প্রায়ই টাকা চুরির ঘটনা শোনা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিভাগের বনভোজনে যাওয়ার পথে প্রায় ৮ হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটে।
তিনি আরো জানান, সেখানে বিভাগীয় প্রধানের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা, এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিভাগের সেকশন অফিসারের স্ত্রীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা চুরি হয়। বিভাগীয় প্রধানের ব্যাগ থেকে টাকা চুরি হওয়ার পর উক্ত শিক্ষিকার ওপর সন্দেহ করা হয় এবং রাতে সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাগ তল্লাশি করা হলে ওই শিক্ষিকার কাছ থেকে অর্থ উদ্ধার করা হয়। শিক্ষার্থী তকিব হাসান জানান, অভিযোগ নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করলে তিনি সেটি প্রক্টরের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেন। পরে আবার উপাচার্যের কাছে গেলে বিভাগে যোগাযোগ করতে বলা হয়। কিন্তু বিভাগীয় পর্যায়ে গেলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। দীর্ঘসূত্রিতা ও টালবাহানার কারণে আমরা বাধ্য হয়ে বিভাগে তালা দিয়েছি।
বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. আতিজা দীল আফরোজ বলেন, আমাদের বিভাগ বরাবর আবেদন এসেছে ৮ তারিখ। শিক্ষার্থীরা গিয়েছিল উপাচার্যের কাছে, সেখানে প্রক্টরসহ অনেকে ছিলেন। সেখান থেকে বলা হয়েছে, বিভাগের মাধ্যমে আসবে, প্রথমে বিভাগ, পরে ডিন- এইভাবে প্রক্রিয়াগতভাবে যাবে। শিক্ষার্থীরা জানাতে এসেছে, বিভাগ কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তখন আমি জানিয়েছি যে আমার জানা মতে এখানে বিভাগের এখতিয়ার নেই। -

জীবননগরে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্য ৩শত অসহায় পরিবারের পাশে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা-তে ৩০০ দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
সংস্থার নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক সাব্বির সামি মুহিত-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ ইফতেকার আলম,জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপারেশন আতিয়ার রহমান,ওসি তদন্ত রিপন কুমার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জাকির উদ্দিন মোড়ল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জুয়েল রানা, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা জামিল আখতার, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল জব্বার, এবং এবলুম বাংলা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ খায়রুল বাশার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও বলেন, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সংস্থাটি এ উপজেলায় সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে সাব্বির সামি মুহিত বলেন, রমজান মুসলিমদের জন্য সংযম ও সহমর্মিতার মাস। সেই চেতনা থেকেই দেশব্যাপী পর্যায়ক্রমে এক লাখ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদানের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা, মানবাধিকার ও জরুরি সহায়তাসহ প্রায় ৩০টি প্রকল্প নিয়ে তারা সারা দেশে কাজ করে যাচ্ছে।
-

রাজবাড়ীতে ধার পরিশোধ না করায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা
ধার নেয়া মাত্র আড়াই হাজার টাকা পরিশোধ না করায় রাজবাড়ী পৌরশহরে দিনদুপুরে জাহিদ হাসান (২৭) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পৌর শহরের ড্রাইআইচ ফ্যাক্টরি এলাকার ভিপি ফরিদ সড়কে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, পূর্বশত্রুতার জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত জাহিদ ওই এলাকার মাহাতাব ফকীরের ছেলে।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান
এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে জাহিদ হাসান খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে একই সড়কের সাহেব আলী ওরফে মনোর দোকানে যান। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা গুরতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে জাহিদ হাসান মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে তিনি বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন এবং শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। নিহতের বড় ভাইয়ের ছেলে শিহাব ফকীর জানান, আমরা জানতাম না কাকার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল। গতকাল দুই ব্যক্তি বাড়িতে এসে কাকার কাছে পাওনা ২ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল বলে পরে দাদির কাছ থেকে শুনেছি। কিন্তু প্রকাশ্যে কে বা কারা এমন ঘটনা ঘটালো আমরা জানি না। আমরা এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।
নিহতের বাবা মাহাতাব ফকীর জানান, আমার ছেলের কারও সঙ্গে কোনো ঝামেলা ছিল না। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চাই।
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক নুর ইসলাম জানান, দুপুর একটার দিকে জাহিদ হাসান নামে একজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
-

পূর্ণ মন্ত্রী হচ্ছেন ২৫ জন
মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন ২৩ সংসদ সদস্য (এমপি) এবং দুজন টেকনোক্র্যাট।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, আব্দুল আওয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী ও খন্দকার আব্দুল মোকতাদির,আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন,আফরোজা খানম রিতা,মো. শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব বুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও শেখ রবিউল আলম,টেকনোক্র্যাট কোটায় মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, ড. খলিলুর রহমান। -

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিপরিষদে যাচ্ছেন যারা
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিপরিষদে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন ২৪ জন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি ও সচিবালয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন- মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো. নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, শামা ওবায়েদ ইসলাম, কায়সার কামাল, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আরও আছেন মো. শরিফুল আলম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ফরহাদ হোসেন আজাদ, এম এ মুহিত, আহমদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, মীর মুহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, হাবিবুর রশিদ, রাজিব আহসান, মুহাম্মদ আব্দুল বারী ও মীর শাহে আলম।
নতুন মন্ত্রিসভার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য ৫০টি গাড়ি গেলো জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের দক্ষিণ প্লাজায়। দুপুর ১টা ৫ মিনিট থেকে গাড়িগুলো সচিবালয় ছাড়তে শুরু করে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাড়িগুলো শপথের পর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে তাদের বাড়িতে যাবে। প্রতিটি গাড়ির সঙ্গে একজন লিঁয়াজো অফিসার রয়েছেন।
-

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় বিজিবি কতৃক বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার।
লালমনিরহাটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১৫ ‘র সদস্যদের মাদক বিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমান মাদক দ্রব্য উদ্ধার।
সোমবার (১৬ফেব্রুয়ারী) সকালে ১৫ বিজিবি সীমান্তের লোহাকুচি বিওপি এলাকায় তথ্যভিত্তিক গোয়েন্দা সূত্রে মহিষতুলি নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে,
এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় সন্দেহজনক কিছু সংখ্যক ব্যক্তিদের গতিবিধি লক্ষ্য করে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়।পরবর্তীতে ফেলে রাখা মালামাল তল্লাশী করে ভারতীয় নিষিদ্ধ জাতীয় ১৩৯ বোতল ‘স্কাফ’ সিরাপ জব্দ করা হয়।লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় ১৩৯ বোতল ‘স্কাফ’ সিরাপ যার সর্বমোট সিজার মূল্য ৫৫ হাজার ৬ শত টাকা।
এছাড়াও মাদক ও চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার “লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি” বলেন,
দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। মাদক পাচার রোধে সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করে বিজিবি’র গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। -

মন্ত্রী সভার সম্ভাব্য তালিকা,রয়েছেন ডা.মাহবুবুর রহমান লিটন
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর আলোচনায় এখন নতুন সরকার গঠন ও সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা। দলটির ঘোষণানুযায়ী চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, প্রশাসনিক দক্ষতা ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এ তিন মানদণ্ড প্রাধান্য দিয়ে ২০ থেকে ২২ জনের ছোট আকারের কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। এ ছাড়াও দুই থেকে তিনজন টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন বলে দলের একাধিক সূত্র বাংলাদেশ প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছে। ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হতে পারে। নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১৩ আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বিএনপির সংশ্লিষ্টরা জানান, অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। টেকনোক্র্যাট কোটায় অনির্বাচিত বিশেষজ্ঞ ও জোটসঙ্গীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মন্ত্রিসভার অংশ হতে অনেকেই দৌড়ঝাঁপ করছেন, যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যই মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ ছাড়াও সম্ভাব্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আমান উল্লাহ আমান, খন্দকার মোক্তাদির, অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, রেজা কিবরিয়া, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আসাদুল হাবিব দুলু, আফরোজা খানম রিতা, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আবদুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবদিন ফারুক, মিজানুর রহমান মিনু, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, জহির উদ্দিন স্বপন, আলী আসগার লবি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, রকিবুল ইসলাম বকুল, শরীফুল আলম, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, নজরুল ইসলাম আজাদ, জি কে গউছ, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জাকারিয়া তাহের সুমন, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, রফিকুল আলম মজনু, ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, সাইদ আল নোমান, হাবিবুর রশিদ হাবিব, এস এম জিলানী, খন্দকার আবু আশফাক, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, দীপেন দেওয়ান, নুরুল ইসলাম নয়ন, এইচএম সাইফ আলী খানের নাম আলোচনায় রয়েছে।
টেকনোক্রাট ও জোটসঙ্গীদের সম্ভাবনা : টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বিএনপির নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, রুহুল কবির রিজভী, হুমায়ন কবির, অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, মাহদী আমিন, আমিনুল হক। এ ছাড়া জোটসঙ্গী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের নামও আলোচনায় রয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, নতুন মন্ত্রিসভা কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোয় গড়ে তোলা হবে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ছাড়াও তাঁকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে এমন আলোচনাও রয়েছে। এ ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও রাষ্ট্রপতি হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন। অন্যদিকে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকে দু-একজন স্পিকার হওয়ার আলোচনায়ও রয়েছেন। নতুন সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের লড়াই ছিল রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের। শহীদদের আকাক্ষা ও তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা একটি মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে চাই। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার এবং ‘৩১ দফা’ অনুযায়ী সংবিধানের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার করা হবে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্বাধীনতার পর এ সংসদই হবে সবচেয়ে বেশি আইন প্রণয়নকারী ও জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলক। নতুন সরকারের তিনটি মূল অগ্রাধিকার হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও দুর্নীতি নির্মূল করা। তিনি বলেন, কেমন মন্ত্রিসভা হতে যাচ্ছে, তা দেখার জন্য দেশবাসীকে আর অল্প কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
-

রাজবাড়ীর দুটি আসনে সাবেক এমপিসহ জামানত হারালেন ৯ প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ীর দুটি সংসদীয় আসনের মধ্যে রাজবাড়ী-১ আসনে ৪ জন ও রাজবাড়ী-২ আসনের ৯ জনসহ মোট ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
কিন্তু এই দুই আসনের ফলাফল বিবেচনায় ১৩ জনের প্রার্থীর মধ্যে ৯ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের জারি করা পরিপত্রে অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে হবে। অন্যথায় জামানত বাবদ জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত হবে।
মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীদের ৫০ হাজার টাকা জামানত বাবদ জমা দিতে হয়। এ অর্থ নগদ, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ইসির অনুকূলে জমা দেওয়া হয়।
বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী রাজবাড়ী-১ (সদর ও গোয়ালন্দ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়া ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইস দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১ হাজার ৯২ ভোট পেয়েছেন।
এ ছাড়া জাকের পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস গোলাপ ফুল প্রতীকে ৮ হাজার ৮৭ ভোট ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী খোন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু লাঙ্গল প্রতীকে ২ হাজার ৫৮৬ ভোট পেয়েছেন।
জানা গেছে, রাজবাড়ী-১ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৩০ হাজার ২১৫ জন। এর মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৭১ হাজার ৯০২টি। মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট হচ্ছে ৩৩ হাজার ৯৮৮টি। রাজবাড়ী-১ আসনের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জাকের পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী গোলাপ ফুল প্রতীকে পেয়েছে ৮ হাজার ৮৭ ভোট এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী খোন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু পেয়েছে ২ হাজার ৫৮৬ ভোট। মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোটেরও কম পেয়েছেন তারা। এ জন্য নিয়ম অনুযায়ী তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। এদের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী খোন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু টানা তৃতীয় বারের মতন জামানত হারালেন।
অপর দিকে রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হারুন-অর-রশিদ ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির জামিল হিজাযী শাপলা কলি প্রতীকে ৬৭ হাজার ২৯৯ ভোট পেয়েছেন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসিরুল হক সাবু কলস প্রতীকে ৩৬ হাজার ৩৩৮ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মালেক হাত পাখা প্রতীকে ৮ হাজার ৫০৩ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. শফিউল আজম খান (লাঙ্গল) প্রতীকে ২ হাজার ৫২ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল মোল্লা (ফুটবল) প্রতীকে ১ হাজার ২১৯ ভোট, গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. জাহিদ শেখ (ট্রাক) প্রতীকে ৬৩৩ ভোট, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী কাজী মিনহাজুল আলম (দেয়াল ঘড়ি) প্রতীকে ৩২১ ভোট ও সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মালেক মন্ডল (ছড়ি) প্রতীকে ২৬৬ ভোট পেয়েছেন।
রাজবাড়ী-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৩ হাজার ১৯৪টি। এই আসনের মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট হচ্ছে ৪৫ হাজার ৪০০।
রাজবাড়ী-২ আসনের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসিরুল হক সাবু কলস প্রতীকে ৩৬ হাজার ৩৩৮, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মালেক হাত পাখা প্রতীকে ৮ হাজার ৫০৩ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. শফিউল আজম খান লাঙ্গল প্রতীকে ২ হাজার ৫২ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল মোল্লা ফুটবল প্রতীকে ১ হাজার ২১৯ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. জাহিদ শেখ ট্রাক প্রতীকে ৬৩৩ ভোট, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী কাজী মিনহাজুল আলম দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে ৩২১ ভোট ও সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মালেক মন্ডল ছড়ি প্রতীকে ২৬৬ ভোট পেয়েছেন। তাদের সবাই মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোটের কম পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। এদের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শফিউল আজম খান লাঙ্গল প্রতীকে দ্বিতীয় বারের মতন জামানত হারালেন।
জেলা নির্বাচন অফিসার সেক মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানান, কোন প্রার্থী যদি মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পান, তাহলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সে ক্ষেত্রে জামানতের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
