মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজবাড়ীতে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাব’জ্জী’বন নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঘুন্টি-বেলতলী সড়কে যান চলাচল বন্ধ,চার লেনসহ চার দফা দাবি রাজবাড়ী জেলা বিএনপি কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের আগুন, লাইট-ব্যানার ভস্মীভূত চাটমোহর থানায় মাদকবিরোধী অভিযান: ১৪ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার তথ্য গোপন করে একাধিক পেশায় যুক্ত থাকার অভিযোগ, কাজির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ পাংশায় মালিককে রসমালাইয়ে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করে চুরি, ১৫ ভরি স্বর্ণ ও ২২০ ভরি রুপার গহনা উদ্ধার আদিতমারীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দখলের অভিযোগ, ড্রিল মেশিনে দরজা কেটে বৃদ্ধা মা-মেয়েকে পিটিয়ে আহত ফোর লেনের অপেক্ষায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা-প্রাণহানি একটি পা কেটে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামায় চক্র, দাবি কিশোর রায়হানের

রাজবাড়ীতে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাব’জ্জী’বন

মুনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি।
  • আপডেটের সময়: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৩ সময় দেখুন

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দীতে নিজের মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১ টায় দিকে রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম বালিয়াকান্দি উপজেলার পাকালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০২১ সালের ১৩জানুয়ারি বালিয়াকান্দি থানায় মামলা করেন তার স্ত্রী খোদেজা বেগম। মামলায় ভুক্তভোগী মেয়ের বয়স ঘটনার সময় ১৬ থেকে ১৭ বছর উল্লেখ করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের ১২ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১টার দিকে মায়ের অনুপস্থিতিতে আসামি তার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগও মামলায় আনা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা।

মামলাটি তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচার চলাকালে ভুক্তভোগী, ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক ও তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ৯ জন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মেডিকেল প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

রায়ে আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তার অর্জিত সম্পদ থেকে তা আদায়ের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহিদ উদ্দিন মোল্লা। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আনিছুর রহমান।

বিষয়ে রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহিদ উদ্দিন মোল্লা বলেন, মামলাটি তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচার চলাকালে ভুক্তভোগী, ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক ও তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ৯ জন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্য, মেডিকেল প্রতিবেদনসহ উপস্থাপিত অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন। এ কারণে আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 রংধনুটিভি
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD