সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শেরপুরের কৃতি সন্তান ডা. আসাদুজ্জামানের চিকিৎসা সেবায় সকল নাগরিক ও রোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গোয়ালন্দে সোয়া কোটি টাকার সড়কে দুই মাসেই ধস, নিম্নমানের কাজের অভিযোগ রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার সহ ৭ কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্ণীতির মামলা দুই মাসের মধ্যে রংপুর মেডিকেল সার্বিক পরিবর্তন আনা হবে- দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী সরকার ও বিএনপিতে বড় রদবদলের আভাস ১০লাখ টাকার ড্রেন নির্মানের ৭ দিনের মধ্যেই ভেঙ্গে বন্ধ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নকলা পৌরসভা নির্বাচন প্রার্থীদের প্রচারণা শুরু রামগড় ৪৩ বিজিবির উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ আদিতমারী বুড়ির হাটের সরকারি জায়গা সিন্ডিকেটের দখলে, অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে চলছে হাট-বাজার, দ্রুত প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া দাবি বাজারের কতৃপক্ষের।

তজুমদ্দিনে ইলিশ মাছের নিষেধাজ্ঞার জাঁতাকলে জেলেদের দীর্ঘশ্বাস

এইচ এম হাছনাইন, তজুমদ্দিন, ভোলা প্রতিনিধি।।
  • আপডেটের সময়: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৩৫ সময় দেখুন

মা ইলিশ সংরক্ষণে শনিবার ৪ অক্টোবর ২০২৫, রাত ১২ টা থেকে ২৫ অক্টোবর ২০২৫ রাত ১২টা পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনা নদীসহ বঙ্গোপসাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এই খবরে উপকূলজুড়ে জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে নেমে এসেছে হতাশার ছায়া। নিষেধাজ্ঞার দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসায় ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় প্রায় অর্ধ লাখ জেলের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
মেঘনা নদীতে বিগত বছরে এই সময়ে ইলিশের ছড়াছড়ি থাকলেও এবার জেলেদের জালে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। নিকট অতীতে নিষেধাজ্ঞার সময়গুলোতে রোজগার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটিয়েছেন। নিত্যদিনের খাবার জোগাতে জেলেদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বছরের বিভিন্ন সময়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সরকার নামমাত্র চাল সহায়তা দিলেও তা অধিকাংশ জেলেই পান না। নিষেধাজ্ঞার জাঁতাকলে বছরজুড়ে ধারদেনায় জর্জরিত থাকতে হয় জেলেদের। অধিকাংশ জেলেই বিভিন্ন এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধে চিন্তায় পরেছেন। জানা গেছে, গত বছর ১৩ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞার সময় শুরু হলেও এবার ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত ইলিশ নিধন ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, ভরা মৌসুমে নদী ও সাগরে ইলিশ ধরা পড়েনি। খালি হাতে ফিরছে বেশিরভাগ জেলে। যখনি নদী ও সাগরে ইলিশ দেখা মিলছে, তখনই সরকার মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার সময় পরিবর্তনের দাবি করেন জেলেরা। স্লুইসগেট এলাকার জেলে আরিফ মাঝি জানান, কিস্তির বোঝা মাথায় নিয়ে প্রতিনিয়ত মেঘনায় জাল ফেলে আসছি। কোনো দিন খালি হাতে ফিরেছি, আবার কোনো দিন দু-একটা ইলিশ নিয়ে ফিরেছি। এখন যখন আজকাল কমবেশি ইলিশ পড়তে শুরু করেছে, শুনছি সরকার মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এতে করে ধার-দেনা কীভাবে মিটাবো? আবার নিষেধাজ্ঞার সময় পরিবারের খরচ কীভাবে জোগাড় করব তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছি। ইব্রাহিম, নয়ন,কামাল সহ অনেক জেলেরা জানান, এই সময় নিষেধাজ্ঞার তারা সংসারের খরচ চালাতে পারেন না। এতে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা না থাকায় উপজেলা মৎস্য অফিসের সহকারী মো. মনির জানান, জেলেরা নিষেধাজ্ঞা পেছানোর দাবি করেছেন। তবে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা লালমোহন মৎস্য কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমির হোসেন জানান, নদীতে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ইলিশের সংরক্ষণ কমে গেছে। তবে মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে আগামীতে জেলেদের জালে ইলিশের দেখা মিলবে। তাই সরকারের নিষেধাজ্ঞার যাতে সঠিকভাবে পালন করা হয় সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ২২ দিনের বিশেষ অভিযান চালানো হবে। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণন ও মজুত নিষিদ্ধ থাকবে। এ অভিযানে মৎস্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশ নেবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 রংধনুটিভি
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD