ময়মনসিংহের ত্রিশালের হরিরামপুর রায়ের গ্রামের বাসিন্দা, মরহুম হারিস ডাকাতের বড় ছেলে, মোঃ সোহাগ মিয়া, শশুর বাড়ি থেকে তার বোনকে দিয়ে বাচ্চাটি এনে নিজহাতে গলা টিপে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কি কারনে মেরেছে তা এখনো জানা যায়নি ছেলেটির বয়স আনুমানিক ৩ থেকে ৪ বছর, কি রকম সীমার নরপিশাচ হলে নিজের সন্তানকে নিজ হাতে গলা টিপে হত্যা করতে পারে? ঘটনা সুত্রে জানা যায় এই সোহাগ মিয়া দীর্ঘদিন যাবত সম্পর্ক করে মেয়ের পিতা-মাতার অবাধ্যতার মধ্যেই বিয়ে করেন। বিয়ের করার ১ বছর পর তাদের এই নিষ্পাপ সন্তানটি জন্মগ্রহন করে। কিন্তু এই সন্তান রেখেই সে অন্য আর একটি বিয়ে করেন। এই ক্ষোভে তার প্রথম স্ত্রী তার সংসার ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে আসে। বাপের বাড়ি থেকে চাকরি করে নিজের সন্তান কে লালন পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং লালন পালন করে আসতেছিল। এর মধ্যে সে নরপিশাচ ঘাতক স্বামী তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু সে আর স্বামীর সংসার করবে না এই সিদ্ধান্তে অটল থাকে। ঘাতক স্বামী বলে তুই না গেলে আমার ছেলেকে দিয়ে দে আমার কাছে। ছেলের মা বলে আমার জীবন গেলেও আমি আমার সন্তান কে দিব না। আনুমানিক ধারণা এই ক্ষোভেই হয়ত এই নরপিশাচ পিতা ৩/৪ বছরের নিষ্পাপ শিশুটিকে গলা টিপে হত্যা করে এই ঘাতক।
ত্রিশাল থানা সূত্রে জানানো হয়:-
ইং ০১/০৪/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৬.৩০ ঘটিকার সময় ত্রিশাল থানাধীন হরিরামপুর ইউনিয়নের রায়েরগ্রাম ভাটিপাড়া এলাকায় ৩ বছর বয়সী শিশু লাবিব হত্যার ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির পর দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া জানা যায় যে, নিহত শিশু লাবিব (৩) স্থানীয় বাসিন্দা লামিয়া আক্তারের সন্তান। সোহাগ, পিতা-মৃত হারিজ ডাকাত, সাং-রায়েরগ্রাম, থানা-ত্রিশাল, জেলা-ময়মনসিংহ নিহত শিশুটির পিতা। স্থানীয় সূত্রে প্রথমিক ভাবে জানা যায়, ডিসিসটের পিতা সোহাগ চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন এবং নিহত শিশুর মা লামিয়া তার তৃতীয় স্ত্রী। পারিবারিক কলহের জেরে দীর্ঘদিন ধরে লামিয়া তার সন্তান লাবিবকে নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। নিহতের নানা মোঃ মোজাম্মেল হক (ওজা মিয়া) জানান, ইং ০১/০৪/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ০৩.০০ ঘটিকার সময় ভিকটিমের পিতা সোহাগ ভিকটিম লাবিব (৩) কে তাহার নানার বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে নানার বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে একই তারিখ সন্ধ্যা ০৬.৩০ ঘটিকার সময় ভিকটিম এর নানার বাড়ি থেকে প্রায় ৮০০ গজ দূরে ইলিয়াসের বাড়ির পাশে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ভিকটিম লাবিব (৩) এর মৃতদেহ দেখতে পেয়ে ত্রিশাল থানা পুলিশকে খবর দিলে ত্রিশাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া মৃতদেহ সুরতাল রিপোর্ট প্রস্তুত করতঃ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।