রাজবাড়ী জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে গভীর রাতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আগুনে কার্যালয়ের দেয়ালে থাকা ব্যানার ও লাইট পুড়ে গেছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্লপসেবল গেট।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে কোনো একসময় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
সকালে দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে রাজবাড়ী সদর থানার পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, কেরোসিন তেল দিয়ে আগুন লাগানো হয়েছিল। পুলিশ কাজ শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত যারাই থাকুক না কেন, সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’
এ ঘটনায় জেলা বিএনপির নেতারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাজবাড়ীসহ সারা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাঁদের দাবি, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার পরও তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি দলীয়ভাবে ঘটনার তদন্তের পর মামলা করার কথাও জানান বিএনপি নেতারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাত ১টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের সব কক্ষ ও গেটের তালা পরীক্ষা করে বাড়িতে চলে যান কেয়ারটেকার। সকালে এসে তিনি আগুন দেওয়ার বিষয়টি দেখতে পান।
দলীয় কার্যালয়ের কেয়ারটেকার আতর আলী বলেন, ‘রাত ১টার দিকে তালা চেক করে বাড়িতে যাই। তখন এখানে কেউ ছিল না। সকাল সাড়ে ৮টার পর খবর পাই, রাতে কে বা কারা দলীয় কার্যালয়ের গেটে আগুন দিয়েছে। তখন তাড়াতাড়ি এসে বিষয়টি নেতাদের জানাই।’
রাজবাড়ী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম শিকদার পিন্টু বলেন, ‘এটা একটি পরিকল্পিত ঘটনা। একাধিক মামলা থাকার পরও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখনও রাজবাড়ীতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যারা মাদক সেবন ও অস্ত্র পাচার করে, তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব বলেন, ‘এই ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। যারা ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের প্রকাশ্যে বিএনপিকে মোকাবিলা করার মতো সাহস নেই। তারা চোরাগোপ্তা গুপ্তঘাতক।
রাজবাড়ীর রাজনীতিকে নষ্ট, উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত ও পরিবেশ নষ্ট করতেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’
রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মঞ্জুরুল আলম দুলাল বলেন, ‘এই ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত। ফ্যাসিবাদীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনা উদঘাটনে পুলিশকে সহযোগিতা করতে আমরাও দলের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত করব। বড় ধরনের একটি পরিকল্পনা নিয়ে এই আগুন দেওয়া হয়েছিল। আল্লাহর অশেষ রহমতে আগুন কার্যালয়ের ভেতরে যায়নি। ব্যানার, লাইট ও গেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা চাই পুলিশ দ্রুত তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনুক।’