প্রেস রিলিজ
বাদী শফিকুল ইসলাম (৪৩), পিতা-মৃত মাঈন উদ্দিন, মাতা-জায়েদা খাতুন, সাং-টেংরা, পোঃ টেংরা, থানা-শ্রীপুর, জেলা-গাজীপুর, এ/পি-মাসকান্দা, স্টাফ কোয়ার্টার সংলগ্ন, শফিকুল ইসলাম এর বাসার ভাড়াটিয়া, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ আপনার থানায় হাজির হইয়া বিবাদী ১। মোঃ রবিউল মোল্লা (২৬), পিতা-মোঃ রেজাউল মোল্লা, মাতা-শাহনাজ বেগম, সাং-কলিগাতি, ইউপি-শিবপুর ৪নং ওয়ার্ড, থানা-চিতলমারী, জেলা-বাগেরহাট, ২। সোনালী আক্তার (২২), স্বামী-মোঃ রবিউল মোল্লা, পিতা-হাবিল শেখ, মাতা-ঝরনা বেগম, ৩। রাজনা আক্তার (২০), পিতা-হারুন মল্লিক, মাতা-রাবেয়া বেগম, উভয় সাং-নালুয়া, পোঃ বারাসিয়া, থানা-চিতলমারী, জেলা-বাগেরহাট, ৪। আমিরন বেগম (৫৫), স্বামী-মৃত বাবুল মিয়া, ৫। তানিয়া আক্তার (২৬), পিতা-মৃত বাবুল মিয়া, স্বামী-সিয়াম, মাতা-আমিরন বেগম, উভয় সাং-বীররামপুর শেখ বাজার মোড় সংলগ্ন, থানা-ত্রিশাল, জেলা-ময়মনসিংহ ৬। সিয়াম (২৮), পিতা-অজ্ঞাত, সাং-অজ্ঞাত, থানা+জেলা-অজ্ঞাত, ৭। মোছাঃ রাবেয়া আক্তার (২৩), পিতা-কবির শেখ, মাতা-হাসিনা খাতুন, সাং-টেংরাখালী, পোঃ কচুয়া, থানা-কচুয়া, জেলা-বাগেরহাট, ৮। মোঃ আবুল বাশার (২৯), পিতা-মোঃ আফাজ উদ্দিন, মাতা-মোছাঃ জোবেদা খাতুন, সাং-উজান চন্নাপাড়া, থানা-ঈশ্বরগঞ্জ, জেলা-ময়মনসিংহ, ৯। মোঃ ফরিদুল ইসলাম (৪৫), পিতা- মোঃ আজহার আলী, মাতা-বানেছা, সাং-চান্দনা, পোঃ চান্দনা, থানা-গাজীপুর সদর, জেলা-গাজীপুর সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন বিবাদীদের বিরুদ্ধে এই মর্মে এজাহার দায়ের করেন যে, বাদী পেশায় একজন ডাক্তার বর্তমানে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইউএইচ এন্ড এফপিও হিসেবে কর্মরত আছি। ১৬/১১/২০২৫ তারিখ হইতে জুই চৌধুরী নামে একটি ফেইক আইডি হইতে ৫নং বিবাদী তানিয়া আক্তার (২৬) এর সহিত ফেইসবুকে আমার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাদে বাদীর মধ্যে নিয়মিত ফেইসবুক মেসেঞ্জারে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। যোগাযোগের একপর্যায়ে উক্ত জুঁই চৌধুরী নামে ফেইক আইডির ব্যক্তি ৫নং বিবাদী তানিয়া আক্তার বাদীকে ত্রিশাল দেখা করতে বলে। বাদী ৫নং বিবাদী তানিয়া আক্তার এর সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে গাজীপুর মাওনা হইতে সৌখিন পরিবহন বাস যোগে ইং ১৯/১১/২০২৫ তারিখ বিকাল ০৩.৪০ ঘটিকার সময় ত্রিশাল আসিয়া নামে এবং ৫নং বিবাদী তানিয়া আক্তারকে বাদীর সাথে দেখা করার জন্য ফেইসবুক মেসেঞ্জারে নক দেয়। পরবর্তীতে ৫নং বিবাদী তানিয়া আক্তার এর নির্ধারিত ব্যক্তি ৬নং বিবাদী সিয়াম বাদীকে ত্রিশাল বাসষ্ট্যান্ড হইতে একই তারিখ বিকাল অনুমান ০৩.৫০ ঘটিকার সময় রিসিভ করে ত্রিশাল থানাধীন ত্রিশাল পৌরসভা ০২নং ওয়ার্ড, ত্রিশাল উজানপাড়া সাকিনস্থ হিন্দুপল্লী রোড এর হোল্ডিং নং ২০০/১১ জনৈক মোঃ আলমগীর এর বাসার ৪র্থ তলায় মাঝখানে ফ্ল্যাটের রুমে নিয়ে যায়। বাদী উক্ত ফ্ল্যাটে গিয়ে ৫নং বিবাদী তানিয়া এর বেড রুমে গিয়ে কথাবার্তা বলে। কথাবার্তা বলার একপর্যায়ে ইং ১৯/১১/২০২৫ তারিখ বিকাল অনুমান ০৪.১৫ ঘটিকার সময় ১নং বিবাদী মোঃ রবিউল মোল্লা (২৬), ৮নং বিবাদী মোঃ আবুল বাশার (২৯), ৯নং বিবাদী মোঃ ফরিদুল ইসলাম (৪৫) অতর্কিত ভাবে উক্ত ফ্ল্যাটের রুমে প্রবেশ করে এবং পাশের রুম হইতে ২নং বিবাদী সোনালী আক্তার (২২), ৩নং বিবাদী রাজনা আক্তার (২০), ৭নং বিবাদী মোছাঃ রাবেয়া আক্তার (২৩) সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন বিবাদী রুমে আসিয়া বিবাদীরা পরস্পর যোগসাজশে একই উদ্দেশ্যে বাদীকে অবৈধ ভাবে আটক করিয়া বাদীর পরিহিত শার্ট, প্যান্ট অর্ধেক খুলিয়া ৫নং বিবাদী, ৭নং বিবাদী মোছাঃ রাবেয়া আক্তার কে বাদী দুই পাশে বসাইয়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্থির চিত্র ও ভিডিও ধারণ করে। তখন বিবাদীরা আমার নিকট ১০,০০,০০০/-(দশ লক্ষ) টাকা দাবি করে, বাদী যদি তাদের দাবিকৃত টাকা না দেই তাহলে বাদীকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে বাদীর গলায় ছুরি ধরে হুমকি দেয়। তখন বাদী প্রাণে বাঁচার জন্য বিবাদীদের কথা মত বাদীর সাথে থাকা নগদ ২২,৫০০/-(বাইশ হাজার পাঁচশত) টাকা দিয়ে দেয়। তখন বিবাদীরা বিকাশের মাধ্যমে আরো টাকার জন্য বাদীকে চর, থাপ্পর ও কিল-ঘুষি এবং লাঠি দিয়া পিটাইয়া বাদীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। বাদী তাহার প্রান রক্ষার্থে বাদীর পরিচিত আত্মীয় স্বজন এর নিকট হইতে বিবাদীদের দেওয়া বিকাশ নাম্বার ০১৭৯২৬১৯৯৮০, ০১৭৮৭৪৬৫৭৬৮, ০১৬১০১৯৬৫৫৩ সহ আরোও কয়েকটা নাম্বারে সর্বমোট ২,৮০,০০০/- (দুই লক্ষ আশি হাজার) টাকা দেয়। তাহারা আমাকে উক্ত ঘটনার বিষয়ে কাউকে কিছু বলিলে আমাকে খুন করিয়া লাশ গুম করার হুমকি দিয়া ছাড়িয়া দেয়। পরবর্তীতে বাদী ইং ১৯/১১/২০২৫ তারিখ রাত অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার সময় ত্রিশাল থানা পুলিশকে সংবাদ প্রদান করিলে ত্রিশাল থানার পুলিশ বাদীর বক্তব্য শুনে বাদীকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ অভিযান করে। ত্রিশাল থানাধীন বীররামপুর সাকিনস্থ ৪নং বিবাদী আমিরন বেগম (৫৫) এর বসত বাড়ীতে অভিযানকালে ১নং বিবাদী মোঃ রবিউল মোল্লা (২৬), ২নং বিবাদী সোনালী আক্তার (২২), ৩নং বিবাদী রাজনা আক্তার (২০), ৪নং বিবাদী আমিরন বেগম (৫৫) কে আটক করে। আটককালে তাহাদের জিজ্ঞাসাবাদ করিলে তাহারা উপরে বর্ণিত নাম ঠিকানা প্রকাশ করে এবং তল্লাশীকালে ৪নং বিবাদী আমিরন বেগম (৫৫) এর ডান হাতে থাকা এ্যাশ কালারের ভ্যানেটি ব্যাগের ভিতর হইতে বিকাশ হইতে উত্তোলন করার নগদ ৫৬,৮৫০/- টাকা নিজ হাতে বাহির করিয়া দেওয়া মতে উদ্ধার করে এবং বিবাদীদের ০৬ টি মোবাইল ফোন পুলিশ জব্দ করে। পরবর্তীতে পুলিশের সহায়তায় বাদী ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা করাইয়া আটককৃত আসামীদের নিয়া থানায় আসিয়া এজাহার দায়ের করেন।