Blog

  • জীবননগর, হাসাদাহ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠা  বার্ষিকী উদযাপন

    জীবননগর, হাসাদাহ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

    জীবননগর হাসাদাহ প্রেস ক্লাবের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসাদাহ প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে কেক কেটে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রিপন হোসেন, হাসাদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আ. সালাম মাস্টার, হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আক্তারুজ্জামান, হাসাদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, মুহাম্মদ আলী মাস্টার (উপদেষ্টা, হাসাদাহ প্রেস ক্লাব), হাসাদাহ ক্যাম্প ইনচার্জ আহসান হাবিব, এএসআই মাসুদুর রহমান, হাসাদাহ কৃষক দলের আহ্বায়ক আমিনুর রহমান মেম্বার,সাংবাদিক ওমর ফারুক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হাসাদাহ প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা রফিক শাহ, আজিজুর রহমান, এম.আই. আতিয়ারসহ ক্লাবের সদস্য হাসান ইমাম, রাশেদ, রায়হান, লিমন, আ. হাকিম, ফেরদৌস ওয়াহিদ,মুস্নি কবির হোসেনসহ অন্যান্য সাংবাদিক ও অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাসাদাহ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান রিপন। বক্তারা হাসাদাহ প্রেস ক্লাবের পেশাদার সাংবাদিকতা ও সমাজ উন্নয়নে ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

  • পাম্প থেকে তেল নিয়ে গাড়ী চাপা দিয়ে পাম্পের শ্রমিককে চাপা দিয়ে হত্যা,যুবদল সভাপতিসহ  আটক২

    পাম্প থেকে তেল নিয়ে গাড়ী চাপা দিয়ে পাম্পের শ্রমিককে চাপা দিয়ে হত্যা,যুবদল সভাপতিসহ আটক২

    রাজবাড়ীর করিম তেল পাম্প থেকে ৫ হাজার টাকার তেল নিয়ে পালানোর সময় গাড়ী চাপা দিয়ে পাম্পের শ্রমিক রিপন সাহা(২৫)কে চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল হাসেম সুজনসহ ২ জনকে আটক করেছে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ। রাজবাড়ী সদরের গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। রাজবাড়ীর আহলাদিপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার ভোর রাতে করিম ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেয়ার পর দ্রুতগামী একটি জিপ গাড়ি পাম্পের কর্মচারী রিপন সাহাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। ফলে রিপন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। রিপন সাহা (২৫) রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পবিত্র সাহার ছেলে। পাম্পের কর্মচারীদের তথ্য অনুযায়ী, ওই জিপটি প্রায় পাঁচ হাজার টাকার তেল নিয়ে টাকা না দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করছিল। টাকা দাবি করার সময় রিপন সাহা গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দিলে গাড়িটি তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রিপন সাহা নিহত হন। পাম্পের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, জিপটিতে তেল নেওয়ার সময় রাজবাড়ী জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ঠিকাদার আবুল হাসেম সুজন উপস্থিত ছিলেন। তিনি তেল নেওয়ার পর টাকা না দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ফুটেজে ধরা পড়েছে। নিহতের মরদেহ স্থানীয়দের সাহায্যে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হাইওয়ে থানায় মামলা হয়েছে। রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোন্দকার জিয়াউর রহমান জানান, ঘটনার বিষয়ে তদন্তের জন্য আবুল হাসেম সুজন ও তার ড্রাইভারকে আটক করা হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গার জীবন নগরে সেনা হেফাজতে বিএনপির নেতার মৃত্যু, লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর

    চুয়াডাঙ্গার জীবন নগরে সেনা হেফাজতে বিএনপির নেতার মৃত্যু, লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনাবাহিনীর অভিযানে আটকের পর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু (৫২) মারা গেছেন। গতকাল সোমবার দিবাগত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এর আগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাফিজা ফার্মেসির সামনে থেকে তাকে আটক করে বিএনপির কার্যলয়ের এক কক্ষে নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
    ডাবলুর মৃত্যর পর রাত থেকেই জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও বিজিএমইএর সভাপতি এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন।
    এদিকে আজ মঙ্গলবার সকালে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমীনের উপস্থিতিতে জীবননগর থানার পুলিশ শামসুজ্জামান ডাবলুর মরদেহের সুরতহাল করে।
    প্রত্যক্ষদর্শী, বিএনপির নেতা-কর্মী ও পুলিশ সূত্র বলছে, গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল জীবননগর পৌর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
    এদিকে বেলা ১১টার দিকে ফের ঘটনাস্থলে আসেন জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও সাধারণ সম্পাদক, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী শরীফুজ্জামান ডাবলু। পরে তারা নেতা-কর্মীদের শান্ত করলে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে বিচারের আশ্বাসে বেলা দেড়টার দিকে তারা শামসুজ্জামান ডাবলু লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের উদ্দেশ্যে নিয়ে রওনা হন।
    শামসুজ্জামান ডাবলু স্ত্রী জেসমিন আক্তার বলেন, আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। তাকে পরিকল্পতিভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার তিনটা মাসুম বাচ্চাকে এতিম করা হয়েছে। সঠিক বিচার চাই আমি, তারা কেন এভাবে হত্যা করল বিনা অপরাধে। যদি অপরাধী হয় তারে ধরে নিয়ে যাবে…কেনো মেরে ফেলা হলো তাকে। সাথে সাথে কেনো মেরে ফেলা হলো। আমাদের কেনো খবর দেওয়া হলো না আপনার হাসবেন্ট অপরাধী তাকে ধরেছি… আসেন। তারা পরিকল্পতিভাবে গুম করে তাকে হত্যা করেছে।
    শামসুজ্জামান ডাবলু মেয়ে বাবার হত্যার বিচারের দাবি জানি বলেন, কেনো আমার আব্বুকে মারা হলো। কি অপরাধ ছিল আমার আব্বুর?
    চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও বিজিএমইএর সভাপতি এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বলেন, আমরা ইতিমধ্যে এক্টিং জিওসি ব্রিগেডিয়ার ওসমানীর সঙ্গে কথা হয়েছে। ওনি বলেছেন যে, আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ বিচার করা হবে। আমরা আইন অনুযাযী সব ব্যবস্থা নেব।
    চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি এবং আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি এরকম একটি ঘটনাতে একজন মানুষের একজন নেতার মৃত্যু হয়েছে। আপনরা একটু ধৈয্য ধারণ কররু, আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে সবকিছু হবে। আমাদের বাহিনীর পক্ষ থেকে এবং সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ যে ব্যবস্থা নেওয়ার সেটা আমরা নেব।
    চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ওনার মৃত্যুটা যদি হত্যাকাণ্ড হয় তাহলে তদন্ত করে কঠোর বিচার হবে। তদন্তে যদি প্রমাণ হয়ে এটা হত্যা কেউ রেহাই পাবে না। গতকার রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত প্রশাসের সর্বোচ্চ মহলের সঙ্গে কথা হয়েছে..এবং তারা বলেছে তদন্ত করে যদি জানা যায় এটা হত্যাকাণ্ড আইনগত সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাইকে ছাড় দেওয়া হবে না। এখন আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করতে চাই, বিচারের যে প্রক্রিয়া, বিচার করতে হলে প্রথমে সুরতহাল এবং ময়নাতদন্ত করতে হবে। এ বিষয়ে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

  • হোসেনপুরে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও গৃহবধূকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলন

    হোসেনপুরে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও গৃহবধূকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলন

    ​কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পৈত্রিক সম্পত্তি দখল, নতুন দাগ- ১৫৬৮, পুরাতন দাগ- ৭৮৬ মৌজা- পূর্ব দ্বীপেশর। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা এবং মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এক প্রবাসীর স্ত্রী। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে হোসেনপুর পৌর এলাকার মাইক্রোস্ট্যান্ড সংলগ্ন স্থানে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী হাওয়া আক্তার, যার স্বামী মুঞ্জু মিয়া বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ডা. রফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভূমি দস্যুতা এবং শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ আনেন। বেগম হাওয়া অভিযোগ করেন যে, ডা. রফিকুল ইসলাম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করার চেষ্টা করছেন। ভুক্তভোগীর দাবি, ডা. রফিকুল ইসলাম দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় তাকে মারধরসহ শ্লীলতাহানি করা হয় এবং তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় ( সাব্বির) । ​জমি দখলের প্রতিবাদ করায় উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট ‘চাঁদাবাজি’ মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। “আমার স্বামী বিদেশে থাকেন, এই সুযোগে ডা. রফিকুল ইসলাম আমাদের পৈত্রিক ভিটা কেড়ে নিতে চাইছেন। তারা আমাকে মারধর করেছে, আমার গহনা ছিনিয়ে নিয়েছে। এখন আবার আমাদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকাছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।” — হাওয়া আক্তার (ভুক্তভোগী)
    ​ ​সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর আত্মীয়-স্বজনরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং ভূমি দস্যু ডা. রফিকুল ইসলামের হাত থেকে রেহাই পেতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। জমিসংক্রান্ত বিরোধ ও মারধরের বিষয়ে একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন; তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • লাখো ভক্তের সমাগমে আটরশিতে শুরু বিশ্ব উরস শরীফ

    লাখো ভক্তের সমাগমে আটরশিতে শুরু বিশ্ব উরস শরীফ

    বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের মহামহিম প্রতিষ্ঠতা বিশ্ব ওলি হজরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) কেবলাজান ছাহেবের মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরিফ শুরু হয়েছে।

    সাম্য, শান্তি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছরের মত এবারও লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে শুক্রবার জুমার বিশাল জামাতের পর বিশ্ব ওলি হজরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) কেবলাজান ছাহেবের পবিত্র রওজা শরিফ জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে উরস শরীফ শুরু হয়। ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে চার দিনব্যাপী এই উরস শরীফ ১০, ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। উরস শরীফ উৎযাপনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই লক্ষ ভক্তবৃন্দ সমবেত হয়েছেন। মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব উরস শরীফ।

    মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ উপলক্ষে নান্দনিক সাজে সজ্জিত করা হয়েছে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল। দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ আশেকান, জাকেরান, ধর্মপ্রাণ মুমিন মুসলমান ও ভক্তবৃন্দ সমবেত হচ্ছেন বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে। ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও মোনাজাতসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন রাত ৩টায় রহমতের সময় থেকে শুরু করে এশার নামাজের পর দয়াল নবীকে ৫০০ বার দূরুদ শরীফ নজরানা দিয়ে কর্যক্রম শেষ হয় বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের। দিনব্যাপি চলতে থাকে ধর্মীয় আলোচনা ও বিশেষ মোনাজাত।

    বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের সুমহান প্রতিষ্ঠতা বিশ্ব ওলী হয়রত খাজাবাবা ফরিদপুরী ১৩৫৪ বাংলায় ফরিদপুরের সদরপুরে আটরশি গ্রামে আসেন। আটরশির নিভৃত পল্লীতে জাকের ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে তিনি রাসুল (সাঃ) এর সত্য তরিকা প্রচার শুরু করেন। খাজাবাবা প্রথমে যেদিন আটরশিতে আসেন সেইদিন ছিল কোরবানীর ঈদের দিন। তিনি দেখলেন সেই ঈদের দিনে লোকজন লাঙ্গল-জোয়াল নিয়ে মাঠে যাচ্ছে। এই অঞ্চলে নামাজ ছিল না-সমাজ ছিল না। ধনী, মানী, জ্ঞানী, গুণী লোক ছিল না। গরু কোরবানী হতো না। গরুর গোস্তকে এই এলাকার মোসলমানেরা অস্পৃশ্য মনে করত। ইসলাম কি-তারা জানত না। পার্শ্বেই ছিল হিন্দু জমিদারের বাড়ী। এই এলাকার মোসলমানগণ জমিদার বাড়ীর পূজায় অংশ গ্রহণ করত; পূজার প্রসাদ খাইত। তারা হিন্দুয়ানী রীতিকে ভালবাসিত। হিন্দুয়ানী রীতিতেই চলিত। ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধ তাদের কাছে অপরিচিত ছিল। আটরশির মত এত নিকৃষ্ট গ্রাম বাংলাদেশে আর দ্বিতীয়টি ছিল না। সেই ঈদের দিনে তিনজন নিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করলেন খাজাবাবা। খোদাতায়ালার নিকট এই দু’আ করলেন, ‘‘হে খোদাতায়ালা!
    এই যে তিন/চার জন আমরা ঈদের নামাজ পড়িলাম। দয়া করিয়া তুমি এখানে বিশাল ঈদের জামাত কায়েম কর।”
    মহান খোদাতায়ালার দয়ায় আজ এখানে বিশাল ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ একসাথে নাজাম আদায় করে।

    এই ফরিদপুর জেলার গেরদা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেছিলেন হযরত ফরিদপুরী (কুঃ) ছাহেবের দাদাপীর হযরত সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রহঃ)। তিনি সেখানে সত্য ইসলামের হিদায়াত করতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং মনে কষ্ট নিয়ে কলকাতা চলে গিয়েছিলেন ফরিদপুর ছেড়ে। তবে কলকাতা যাবার প্রাক্কালে তিনি ভবিষৎবাণী করে গিয়েছিলেন, “এখানে আমার গোলামের গোলাম আসবে যার সামনে কোন অপশক্তিই টিকবেনা।” সেই মহান বুযুর্গের গোলাম হযরত এনায়েতপুরী (কুঃ) এবং উনার গোলাম খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ) সাহেব যিনি স্বীয় দাদাপীরের ভবিষ্যত বাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত করেছেন এবং হিদায়েতের বাণী প্রচারে, ইসলামের সত্য প্রচারে প্রতিষ্ঠা করেছেন বিশাল পুণ্য ভুমি “বিশ্ব জাকের মঞ্জিল”। তিনি রাসুল (সাঃ) এর আদর্শে আদর্শবান হয়ে গড়েছিলেন নিজের জীবনকে, নিজের পীরের সংস্পর্শে সুদীর্ঘ ৪০ বছর সাধনা করেন। তিনি ছিলেন রাসুল (সাঃ) এর সুন্নতের পরিপূর্ণ অনুসারী, জীবনযাত্রা ছিল রাসুল (সাঃ) এর চরিত্রের বাস্তব চিত্র।

  • শহীদ ওসমান হাদীর খুনিদের বিচার না হলে রাষ্ট্রকেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে -ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ

    শহীদ ওসমান হাদীর খুনিদের বিচার না হলে রাষ্ট্রকেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে -ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ

    শহীদ ওসমান হাদীর নির্মম হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়-এটি রাষ্ট্রে চলমান বিচারহীনতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। হাদীর ওপর হামলার দীর্ঘ ১ মাস পূর্ণ হলেও খুনীদের বিচারের আওতায় আনতে না পারার দায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। শহীদ ওসমান হাদীর খুনিদের বিচার না হলে রাষ্ট্রকেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

    ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার বাদ জুমআ বাইতুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইটে অনুষ্ঠিত ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আধিপত্যবাদ বিরোধী পদযাত্রা ও সমাবেশে এসব কথা বলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ। পদযাত্রা ও সমাবেশ পরিচালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ।

    কেন্দ্রীয় সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই আজকের রাষ্ট্রব্যবস্থা। অথচ সেই রাষ্ট্রেই যদি জুলাই যোদ্ধা শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার না হয়, তাহলে এই রাষ্ট্রের নৈতিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, শহীদ ওসমান হাদী হত্যার বিচার না হলে জনগণকে আবারও রাজপথে নামতে হবে, এবং সেই দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

    তিনি আরো বলেন, ফেলানী থেকে আবরার হয়ে শহীদ ওসমান হাদী; বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফলে ভীনদেশী আধিপত্যবাদ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী এই সময়ে দেশের স্বার্থে তরুণদের আপোষহীন ভূমিকা পালন করতে হবে।

    ইনকিলাব মঞ্চের মার্চ ফর ইনসাফ কর্মসূচিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সমর্থন ঘোষণা।

    ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আধিপত্যবাদ বিরোধী পদযাত্রার কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে অংশ নিয়ে বলেন, ৫ আগস্ট ২৪-এর পর যারা সুশীল কথাবার্তা বলতেন আজ শহীদ ওসমান হাদী ইস্যুতে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। হাদীকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হলেও হাদীকে মুছে ফেলা যায় না। যারা শহীদ হাদীকে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে ও রাজপথে ছিল আগামী দিনে জনগণ তাদেরকেই সমর্থন জানাবে।

    এ সময় তিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ কে শহীদ ওসমান হাদী হত্যার বিচার চেয়ে রাজপথে আধিপত্যবাদ বিরোধী পদযাত্রা কর্মসূচির জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

    ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব বলেন, হাদীকে নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের অযাচিত বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলেন, এমন অথর্ব নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করা যায় না। অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকল খুনিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে জনগণ রাজপথেই ফয়সালা করতে বাধ্য হবে।

    পদযাত্রা কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হোসাইন ইবনে সরোয়ার ও ইমরান হোসাইন নূর, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মাদ ফয়জুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ ইবরাহীম খলীল, তথ্য-গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্পাদক কামরুল ইসলাম, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাইমুন ইসলাম মিঠুন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ইউসুফ পিয়াস, দফতর ও যোগাযোগ সম্পাদক আশিক মাদবর, প্রকাশনা সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ মাহদী ইমাম, পরিকল্পনা ও পাঠাগার সম্পাদক আরিফুল ইসলাম খান লিখন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক ইব্রাহিম নাসরুল্লাহ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক তুহিন মালিক, কওমি মাদরাসা সম্পাদক সাঈদ আবরার, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক আব্দুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য তানভীর আহমেদ শোভন, বি এম মাহদী আল হাসান প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

  • ত্রিশালে মসজিদ উন্নয়ন প্রকল্পে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: সংবাদ প্রকাশের পাঁচ মাস পর দুদকের অভিযান

    ত্রিশালে মসজিদ উন্নয়ন প্রকল্পে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: সংবাদ প্রকাশের পাঁচ মাস পর দুদকের অভিযান

    ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় সাবেক সংসদ সদস্য রুহুল আমীন মাদানীর নামে প্রতিষ্ঠিত একটি মসজিদের উন্নয়ন প্রকল্পে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

    পত্রিকায় প্রকাশিত অনুসন্ধানী সংবাদের পাঁচ মাস পর আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে দুদকের ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের চার সদস্যের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানকালে দুদকের কর্মকর্তারা ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা প্রকল্প অনুমোদন, বরাদ্দ প্রদান, বিল উত্তোলন ও বাস্তব কাজের অগ্রগতি সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করেন।

    দুদক সূত্রে জানা গেছে, দুই অর্থবছরে তিনটি ভিন্ন নামে একই মসজিদের উন্নয়নে বরাদ্দ নেওয়া হলেও বাস্তব কাজের সঙ্গে কাগজপত্রের তথ্যের ব্যাপক গরমিল পাওয়া গেছে। প্রাথমিক যাচাইয়ে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় গুরুতর অসংগতি ধরা পড়েছে।

    ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের দুদকের সহকারী পরিচালক রাজু মোহাম্মদ সারোয়ার হোসাইন বলেন, “প্রাথমিক তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে কোনো গড়মিল বা অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি প্রথম প্রকাশ পায়। ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে—২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তিনটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় এক কোটি টাকা বরাদ্দ নেওয়া হলেও একটি প্রকল্পের কাজ একেবারেই হয়নি, একটি আংশিক কাজ করে বন্ধ রয়েছে এবং অপর একটি প্রকল্পে কেবল নামফলক স্থাপন করে পুরো কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে।

    দুদকের অভিযানের মধ্য দিয়ে আলোচিত এই অনিয়মের প্রকৃত চিত্র উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

  • অপরাধীদের আশ্রয় দিতে দিতে ভারত এশিয়ার ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে – ইশা সভাপতি খায়রুল আহসান মারজান

    অপরাধীদের আশ্রয় দিতে দিতে ভারত এশিয়ার ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে – ইশা সভাপতি খায়রুল আহসান মারজান

    ফেলানী হত্যার বিচার আদায়ে এই সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে – ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    ভারত এশিয়ার এমন একটি দেশ যেখানে এশিয়ার সকল খুনি, গণহত্যাকারী, চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী ও দুর্নীতিবাজরা আশ্রয় নেয়। শহীদ ফেলানির হত্যাকারী, জুলাই হত্যাকারী কিংবা শহীদ উসমান হাদির হত্যাকারীরা ভারতের পৃষ্টপোষকতায় ভারতে অবস্থান করে। ফলে অপরাধকারীদের আশ্রয় দিতে দিতে ভারত এশিয়ার ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে।

    আজ ৭ই জানুয়ারি রোজ বুধবার ফেলানি হত্যা দিবস উপলক্ষে ফেলানী থেকে হাদী সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতের দাবিতে এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সকল প্রকার আদিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উক্ত মন্তব্য করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ সভাপতি খায়রুল আহসান মারজান।

    তিনি আরো বলেন, ভারত স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে কখনোই বাংলাদেশকে স্বাধীন স্বার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ট্রিট করেনি। বরং সবসময় আধিপত্য বিস্তারের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থেকেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে এদেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করে এসেছে। আর সেই ষড়যন্ত্র ও দেশবিরোধী কর্মকান্ডের সূত্র ধরেই ফেলানী, আবরার ফাহাদ ও জুলাই ম্যাসাকার হয়ে উসমান হাদি হত্যার ঘটনা ঘটে। আর এসবের পিছনে ভারতীয় আধিপত্যবাদ সবচেয়ে বড় কারন। তাই এই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এই সরকারকেই সবচেয়ে বেশি সরব হতে হবে।

    মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত বলেন, সীমান্ত হত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। ফেলানী হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ের হাদীসহ অসংখ্য হত্যাকাণ্ড আজও বিচারহীন থেকে গেছে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধকে আরও উৎসাহিত করছে এবং রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করছে।

    সভাপতির বক্তব্যে শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, কোনো জাতি তখনই সভ্য ও মানবিক হতে পারে, যখন সে তার নাগরিকের জীবন ও মর্যাদার নিশ্চয়তা দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজ আদিপত্যবাদী রাজনীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার মানুষের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে অবিলম্বে ফেলানি ও শহীদ উসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    এতে আরো বক্তব্য রাখেন শাখার দাওয়াহ সম্পাদক ইলিয়াস তালুকদার, অর্থ সম্পাদক মোঃ ইকরামুল কবির, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক এরফান মোহাম্মদ। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন শাখার বিভিন্ন ফ্যাকাল্টি ও ডিপার্টমেন্টের দায়িত্বশীলগণসহ সাধারণ শিক্ষার্থী, সচেতন নাগরিক ও মানবাধিকারকর্মীরা।

  • তজুমদ্দিনে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫

    তজুমদ্দিনে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫

    ভোলার তজুমদ্দিনে বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় গ্রুপ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনেছে।
    আহত ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৫) দুপুর ১.০০ টার দিকে উপজেলার শশীগঞ্জ দক্ষিণ বাজার এলাকায় অবস্থিত হাসপাতালের সামনে উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি ইকবাল হোসেন লিটন এবং যুবদল নেতা গিয়াসউদ্দিন হাওলাদার ও মিজান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন।

    আহতদের মধ্যে মো. নোমান (২৫), আব্দুল গফুর (৩৫), মিরাজ (২৫), আল-আমীন (২৫) ও রুবেল (৩৫) উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে আল-আমীনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠান।
    ঘটনার বিষয়ে উপজেলা শ্রমিকদল সভাপতি ইকবাল হোসেন লিটন বলেন, “২০১৭ সালে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা আমার বাজারের দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সে সময় আমাকে মারধর করে উলঙ্গ করে ফেলে। পরে ২০১৮ সালে স্লুইজঘাট এলাকায় সাবেক শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সবুজ তালুকদারের মার্কেটে একটি দোকান পাই। ২০১৯ সালে বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে দোকানের চাবি সবুজ তালুকদারের কাছে গচ্ছিত রাখি। আদালত থেকে জামিন না পেয়ে এক মাসের বেশি সময় কারাভোগ করে ফিরে এসে দেখি, আমার দোকানের সব মালামাল সবুজ ও তার ভাই রিয়াজ লুট করে নিয়েছে। ৫ আগস্টের পর আমি আমার পাওনা বুঝে নিতে গেলে যুবদলের এক নেতার নেতৃত্বে গিয়াস ও মিজান বাধা সৃষ্টি করে। গতকাল সবুজ তালুকদারকে ধরতে শশীগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ মাথায় গেলে গিয়াস ও মিজানের নেতৃত্বে একদল লোক আমাদের ওপর হামলা চালায়।”

    অন্যদিকে যুবদল নেতা গিয়াসউদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, “মঙ্গলবার দুপুরে ইকবাল হোসেন লিটন দক্ষিণ বাজারের ব্যবসায়ীদের গালিগালাজ ও মারধর করেন। এ সময় রুবেল বাধা দিলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে দক্ষিণ বাজারের লোকজন তাদের প্রতিহত করলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে আমাদের রুবেল, ইলিয়াছ ও আবু সাইদসহ কয়েকজন আহত হন।”

    এ বিষয়ে তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সালাম বলেন, “মারামারির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

  • লালমনিরহাট সদর ৩ আসনে নেই কোন হেভিওয়েট প্রার্থী

    লালমনিরহাট সদর ৩ আসনে নেই কোন হেভিওয়েট প্রার্থী

    লালমনিরহাট- ৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক উপমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির সভাপতি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, জনগণের ভালোবাসায় যদি বিএনপি সরকার গঠন করতে পারে তিস্তা মেঘা প্রকল্প ,পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর, মোগলহাট স্থল বন্দর, লালমনিরহাট বিমানবন্দর সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং লালমনিরহাট সদর ৩ আসন থেকে আমাকে নির্বাচিত করেন তাহলে রংপুর বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জেলা হিসেবে লালমনিরহাট কে সমগ্র বাংলাদেশে পরিচিতি লাভ করবে । লালমনিরহাটের উন্নয়নের দিক থেকে এগিয়ে যাবে। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে কারো বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা করা হবে কিনা এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন মিথ্যা মামলার জন্য বিগত দিনে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে লড়াই সংগ্রাম করেছি ।অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষায় সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠু সংবাদ পরিবেশন অপরিহার্য। বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান, নির্বাচনকালীন কর্মসূচি এবং জেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু সাথে নামে মাত্র অন্যান্য প্রার্থীগণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তাদের কোন নির্দিষ্ট ভোট ব্যাংক। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর একক আধিপত্য রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করে আসছে সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু । সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে লালমনিরহাট সদর ৩ সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে, আর অন্যান্য দলের প্রার্থীগণ জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বলে জানান , অনুসন্ধানে জানা গেছে বিএনপির প্রার্থী সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো অন্যান্য দলের হেভিওয়েট প্রার্থী নেই তাই এই আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে এবং অন্যান্য দলের প্রার্থীগণ জামানত বাজেয়াপ্ত হবেন বলে সংশ্লিষ্ট এলাকার সচেতন মহলের দাবি।