Blog

  • দীর্ঘমেয়াদি কোমর ব্যথার রোগীর জন্য পরামর্শ – ডা. মোহাম্মদ আলী

    দীর্ঘমেয়াদি কোমর ব্যথার রোগীর জন্য পরামর্শ – ডা. মোহাম্মদ আলী

    মানুষের শরীরে সাধারণত যতগুলো জটিল সমস্যা হয় তার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কোমর ব্যথা অন্যতম। একজন দীর্ঘমেয়াদি কোমর ব্যথার রোগী জানেন তাঁর জীবনে কী ঘটে যাচ্ছে। এ কারণে কোমর ব্যথার রোগীরা বিষণ্নতা, উদ্বেগ ইত্যাদি মানসিক সমস্যায় ভুগে থাকেন। অনেকে ভাবেন এই ব্যথা তাঁর জীবনে অভিশাপ।

    কোমর ব্যথার রোগীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেন অনেকেই। হাতুড়ে চিকিৎসক থেকে শুরু করে অনেক স্বাস্থ্য পেশাজীবী কোমর ব্যথার রোগীকে মনগড়া চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এমন অনেক দীর্ঘমেয়াদি কোমর ব্যথার রোগী পাওয়া যায়, যিনি বছরব্যাপী ব্যথার ওষুধ সেবন করে কিডনি বিকল করে ফেলেছেন অথবা পেটে আলসার তৈরি হয়ে গেছে। উন্নত বিশ্বে কোমর ব্যথা চিকিৎসা হয় নীতিমালা মেনে। বাংলাদেশে কোমর ব্যথা রোগীর চিকিৎসায় কোনো নীতিমালা মেনে চলা হয় না। এমনকি, কোনো সরকারি নীতিমালাও নেই। বাংলাদেশে কোমর ব্যথা রোগী নিয়ে কোনো উন্নত গবেষণা হয় না। ফলে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি কোমর ব্যথার রোগী সহসাই অবহেলিত ও ভুল চিকিৎসার শিকার হন।

    কী উদ্যোগ প্রয়োজন

    কোমর ব্যথা নিয়ে উন্নতমানের প্রচুর গবেষণা দরকার। বাংলাদেশে কোমর ব্যথা রোগের চিকিৎসা নিয়ে যেসব ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়েছে তা একেবারেই অপ্রতুল ও আন্তর্জাতিকমানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাছাড়াও এ দেশে কোমর ব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহৃত পদ্ধতি যেমন–পূর্ণ বিশ্রাম, ব্যথার ওষুধ, শর্টওয়েভ, মাইক্রোওয়েভ থেরাপি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে অগ্রহণযোগ্য। আন্তর্জাতিক গবেষণা থেকে দেখা যায়, দীর্ঘমেয়াদি কোমর ব্যথার চিকিৎসায় উন্নত ফিজিওথেরাপি সবচেয়ে কার্যকর। এ কারণে কোমর ব্যথার রোগীর সুচিকিৎসায় প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ।

    রোগী কী করবেন

    সচেতন হতে হবে। কোথায় সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যায়, তা খুঁজে বের করা রোগীরই দায়িত্ব। ব্যথার ওষুধ সেবনের মনোভাব পরিহার করতে হবে। যারা দীর্ঘদিন ধরে কোমর ব্যথায় ভুগছেন, তারা মনে রাখবেন বিশ্রাম ব্যথা কমাতে নয় বরং বাড়াতে সাহায্য করবে। কোমরে বেল্ট ব্যবহার করবেন না। ফিজিওথেরাপির নামে বাংলাদেশে যে চিকিৎসা দেওয়া হয় (যেমন: শর্টওয়েভ, মাইক্রোওয়েভ) তা অকার্যকর। অনেকে দীর্ঘমেয়াদি কোমর ব্যথার রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসার কথা বলে থাকেন; যা অগ্রহণযোগ্য তো বটেই; আন্তর্জাতিক নীতিমালায় এটি একটি নিষিদ্ধ চিকিৎসা পদ্ধতি।

    উন্নত চিকিৎসার কী উদ্যোগ আছে

    অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং হাসনা হেনা পেইন রিসার্চ সেন্টার যৌথভাবে কোমর ব্যথা রোগীর ওপর গবেষণা পরিচালনা করছে। এই গবেষণা সফল হলে দেশে কোমর ব্যথা চিকিৎসায় নতুন ও কার্যকরী দ্বার উন্মোচন হবে।

  • ভোলায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৩০ আগস্ট ২০২৫ ছাত্র সমাবেশের ঘোষণা

    ভোলায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৩০ আগস্ট ২০২৫ ছাত্র সমাবেশের ঘোষণা

    গতকাল ১২ আগস্ট ২০২৫, মঙ্গলবার, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা উত্তর শাখার উদ্যোগে সংগঠনের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক ও বর্তমান দায়িত্বশীলদের নিয়ে স্মৃতিচারণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা উত্তর শাখার সভাপতি মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বাহারি।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা উত্তর শাখার সভাপতি মাওলানা আতাউর রহমান মোমতাজি, সেক্রেটারি মাওলানা তরিকুল ইসলাম তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ইউসুফ আদনান, প্রচার সম্পাদক এইচএম ইব্রাহিম আরিফ, ভোলা সদর থানা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা শরিফ বিন রফিকসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    এছাড়াও ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম ও ইসলামী যুব আন্দোলনের জেলা নেতৃবৃন্দ এবং সাবেক দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত নৈতিক নেতৃত্ব, ইসলামের সুমহান আদর্শ ও শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা তুলে ধরেন। তারা ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ঐক্য ও সংগঠন শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

    সভায় ঘোষণা দেওয়া হয়, আগামী ৩০ আগস্ট ২০২৫ ভোলায় এক বৃহৎ ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা—সমাবেশে জেলার প্রতিটি উপজেলা ও থানা শাখা থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেবে, যা ছাত্র সমাজে নৈতিক চেতনা ও ঐক্য জোরদারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

  • ইউনুস সরকার হাসিনার পরামর্শে দেশ চালাচ্ছেন

    ইউনুস সরকার হাসিনার পরামর্শে দেশ চালাচ্ছেন

    ইউনুস সরকার হাসিনার পরামর্শে দেশ চালাচ্ছেন
    – গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান

    গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাশেদ খান বলেছেন, চলমান সংস্কার, খুনিদের বিচার ও দেশের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ড. ইউনুস সরকার হাসিনার পরামর্শে দেশ চালাচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে দেশ থেকে মুজিববাদ ও ফ্যাসিবাদের বিলোপ হবে না।

    মঙ্গলবার(১২ আগষ্ট) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের ফ্যামিলি জোন নামে একটি রেষ্টুরেন্টে “কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে ২০২৪ সালের রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এবং একটি সফল গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারে করণীয় শীর্ষক” এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, চুনোপুটিদের নয়, খুনি শেখ হাসিনা, ওবাইদুল কাদের, কামাল ও শামীম ওসমানদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাসির দড়িতে ঝোলাতে হবে। এ নিয়ে জাতি কোন টালবাহানা সহ্য করবে না। প্রয়োজন হলে আরো ১০টি ট্রাইব্যুনাল বসাতে হবে। টাকা না থাকলে জনগন টাকা দিবে।

    ঝিনাইদহ জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল জাহিদ রাজন, যুব অধিকারের সভাপতি রাকিবুল হাসান রকিব, যুবনেতা মোঃ মিশন আলী, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুল্লা আল মামুন, সাধারণ সম্পাদ মো: রায়হান হোসেন রিহান, মো: মাহাফুজ রহমান, মো: হালিম পারভেজ ও মো: নাহিদ হাসনান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

    তিনি এনসিপির সমালোচনা করে বলেন, এই দলটি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। এটা আমার কথা নয়, টিআইবি প্রধান তাদের কিংস পার্টি বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাছাড়া এনসিপি সমর্থিত দুই উপদেষ্টা পদ নিয়ে দেশ চালাচ্ছেন। তারপরও হাসনাত আব্দুল্লারা ড. ইউনুস সরকারের সমালোচনা করছেন। তাদেরও ভুল ভাঙ্গতে বসেছে।

    তিনি বলেন, যারা হাসিনার মতো স্বৈরশাসককে পরাজিত করতে পেরেছে, তারা আজ নানা কলংকের তিলক মাথায় নিচ্ছে। চাঁদাবাজীতে লিপ্ত হচ্ছেন। মানুষ ও সমাজের কাছে এইসব বীরের হেয় হচ্ছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ছাত্রদের কলংকিত করলো কারা ?

    তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক উপদেষ্টা দুর্নীতি করছেন। তারা আখের গোছাতে ব্যস্ত। ডিসি নিয়োগ থেকে শুরু করে সব কিছুতেই দুর্নীতির ছোঁয়া লেগে আছে। ১৬ বছর বিএনপি-জামায়াতের তকমা লাগানো আমলারা এখনো নির্যাতিত ও পদ বঞ্চিত হচ্ছে বলে মোঃ রাশেদ খান অভিযোগ করেন।

    জুলাই সনদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যে সরকার শহীদদের তালিকা তৈরী করতে পারে না, তাদের কাছ থেকে জাতি কি আশা করতে পারে। তিনি বলেন জাতিসংঘের তদন্তে নিহত’র সংখ্যা চৌদ্দশ কিন্তু জুলাই সনদে সংখ্যা এক হাজার করা হলো। এটা কেন এবং কিভাবে হলো ?

    তিনি গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে মাঠে থাকা ও এক সঙ্গে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেন, মাঠে না থাকলে আ’লীগ মাঠ দখল করে অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে। ইতিমধ্যে তারা এমন ষড়যন্ত্র করে বসে আছে। তাই সবাই কোন না কোন কর্মসুচি নিয়ে রাজপথে থাকতে হবে। ১৪ দল ও জাতীয় পার্টি নানা ছুতোয় নির্বাচন করতে চাইবে। তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। কারণ তারাও হাসিনার উচ্ছিষ্টভোগী। ডামি, মামি বা যে কোন নামে তাদের নির্বাচন করার সুযোগ নেই। তিনি ১৪, ১৯ ও ২৪ সালে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ডিসি, এসপি ও ইউএনওদের বিচার দাবী করেন।

  • ঝিনাইদহে স্কুলের কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ -আহত ১৫

    ঝিনাইদহে স্কুলের কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ -আহত ১৫

    ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর হরিপুর কবি ফজের আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হন জামায়াত সমর্থিত জহুরুল ইসলাম। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে মতবিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার (০৭ আগস্ট) স্কুল কমিটির সভা চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে জামায়াতের ৯ জন ও বিএনপির ৬ নেতাকর্মী সহ মোট ১৫ জন আহত হয়।

    রক্তমাখা শরীর। তীব্র ব্যাথায় কাতরাচ্ছে সবাই। হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কারো মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছে। কেউ ব্যান্ডেজ নিয়ে বসে আছে। এমন সময় একদল মানুষ এসে আহত মানুষগুলোর উপর হামলা চালালো। শুরু হলো ধস্তাধ্বস্তি ও আহত রোগীদের মারধর।

    জরুরী বিভাগের মধ্যে এমন দৃশ্য দেখে হাসপাতালে আসা সেবা গ্রহীতা সবাই হতবাক। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা সদর হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। সেসময় হামলায় আহত রোগীরা আরো আহত হয়ে পড়েন।

    পুলিশ ও এলাকাবাসি সুত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর হরিপুর কবি ফজের আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হন জামায়াত সমর্থিত জহুরুল ইসলাম। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছিলো।

    বৃহস্পতিবার স্কুল কমিটির সভা চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে জামায়াতের ৯ জন ও বিএনপির ৬ নেতাকর্মী আহত হন। বিএনপির আহতরা হলেন, কানুহরপুর গ্রামের ইমাদুর রহমান, একই গ্রামের মাসুম, গোলাম মোস্তফা, সুমন, রেহানা খাতুন ও মহারাজপুর গ্রামের রহমতুল্লাহ।

    জামায়াতের আহতরা হলেন, জহুরুল ইসলাম, হুসাইন, মুজাব আলী, হাফিজুর রহমান, রুপচাঁদ আলী, ফয়জুল্লাহ, সলেমান মন্ডল, তোতা মিয়া ও সফর আলী। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত আহতরা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    এদিকে দুপুর ১২টার দিকে সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে দুই দলের আহত নেতাকর্মীরা আরেকদফায় মারামারিতে লিপ্ত হয়। এ সময় হাসপাতালে আসা সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। হামলার বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াত পরস্পরকে দোষারোপ করছেন।

    ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন সংঘর্ষের খবর নিশ্চিত করে জানান, চার মাস আগে স্কুলের কমিটি করা নিয়ে মারামারির সুত্রপাত হয়। একপক্ষ কমিটি মানতে নারাজ। তারাই বৃহস্পতিবার হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। ওসি আরো জানান, এখনও থানায় কোন পক্ষ মামলা করেনি। তবে দুই পক্ষ মামলা দিলে তা রেকর্ড করা হবে। এবং বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনআনুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সাংবাদিক মানিকের জন্মদিন পালন

    সাংবাদিক মানিকের জন্মদিন পালন

    জীবননগর প্রেসক্লাবে জীবননগর সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহতাব মানিকের জন্মদিন পালন করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় জীবননগর প্রেসক্লাব ভবনে কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন ক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক রিপন হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান,আরটিভির দুবাই প্রতিনিধি এসএম শাফায়েত এবং প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও হাসাদাহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ডিএম মতিয়ার রহমান, চাষী রমজান,আল আমিন, জাহিদুল ইসলাম কাজল, ওমর ফারুক, আজিজুর রহমান, জাকির হোসেন লিটন, অ্যাডভোকেট এ আর রাজ, হাসান ইমাম প্রমুখ। তার জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এবং সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। জন্মদিন উপলক্ষে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

  • জীবননগর প্রেসক্লাবের আয়োজনে সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

    জীবননগর প্রেসক্লাবের আয়োজনে সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

    দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর জেলার স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা এবং বাংলাদেশের আলো পত্রিকার প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেনকে পিটিয়ে ও ইট দিয়ে থেঁতলিয়ে আহত করার প্রতিবাদে জীবননগরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।  জীবননগর প্রেস ক্লাবের আয়োজনে শুক্রবার বিকালে জীবননগর বাসস্ট্যান্ডে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জীবননগর প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক রিপন হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান, দৈনিক চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আব্দুল আজিজ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোকছেদুর রহমান রিমন, জীবননগর প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও উথলী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান নয়ন, আরটিভির দুবাই প্রতিনিধি ও জীবননগরের সন্তান এসএম শাফায়েত এবং প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও হাসাদাহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ডিএম মতিয়ার রহমান।  এ সময় বক্তারা বলেন, একটি মারামারির ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর জেলার স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে গাজীপুরের একটি চায়ের দোকানে নৃশংসভাবে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করেছে একদল সন্ত্রাসী৷ এছাড়া বাংলাদেশের আলো পত্রিকার আনোয়ার হোসেনকে পিটিয়ে ও ইট দিয়ে থেঁতলিয়ে গুরতর আহত করা হয়েছে। আমরা উভয় ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।  বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকরা বার বার হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হলেও এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হয় না। যার ফলে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। আমরা চাই সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য একটি আইন তৈরি করা হোক। একইসাথে সাংবাদিক হত্যার সাথে জড়িতদের কঠিন বিচারের মুখোমুখি করা হোক। যাতে করে ভবিষ্যতে আর কেউ সাংবাদিক হত্যা ও  নির্যাতনের মত জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়। এছাড়া জীবননগর সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম হত্যার সাথে জড়িতদের আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক৷ এসময় জীবননগর উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন৷ মানববন্ধন পরিচালনা করেন জীবননগর প্রেস ক্লাবের সদস্য চাষী রমজান আলী।

  • ঝিনাইদহে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিজয়  র‌্যালি অনুষ্ঠিত

    ঝিনাইদহে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিজয় র‌্যালি করেছে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসুচির অংশ হিসেবে বুধবার দুপুরে শহরের উজির আলী হাইস্কুল মাঠ থেকে বিজয় র‌্যালি শুরু হয়। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপুর্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে চুয়াডাঙ্গা বাসষ্ট্যান্ড এলাকার স্বাধীন চত্বরে এসে শেষ হয়। র‌্যালির নেতৃত্ব দেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড এম এ মজিদ। বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মীদ বিজয় র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। দিবসটি উদযাপন উপলেক্ষ্যে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা উজির আলী হাইস্কুল মাঠে জড়ো হতে থাকে। দুপুর নাগাদ মাঠটি লোকে লোকরণ্য হয়ে ওঠে। র‌্যালিতে নেতাকর্মীরা বাদ্যযন্ত্র, রংবেরঙ্গের প্লাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে অংশ গ্রহন করেন। তবে র‌্যালিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহন ছিল চোখে পড়ার মতো।


    র‌্যালি শেষে স্বাধীন চত্বরে সংক্ষিপ্ত সাবেশে অন্যান্যের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুজ্জামান খান শিমুল, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক এ্যাড এস এম মশিয়ূর রহমান, মুন্সি কামাল আজাদ পাননু, আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, আলমগীর হোসেন আলম, আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, কৃষকদল নেতা মীর ফজলে ইলাহী শিমুল, যুবদল নেতা আহসান হাবিব রণক, আশরাফুল ইসলাম পিন্টু, ছাত্রদল নেতা সোমেনুজ্জামান সোমেন ও মুশফিকুর রহমান মানিক বক্তব্য রাখেন।
    ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড এম এ মজিদ তার সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পৃথিবীর অন্যতম স্বৈরশাসক হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আকাশে উদিত হয় নতুন সুর্য্য। দুই হাজার মানুষের আত্মদানে রচিত হয় ইতিহাসের মহাসোপান।
    তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্টেক হোল্ডারদের মধ্যে নানা মত ও পথ থাকবে। কিন্তু ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ের ক্ষেত্রে আমরা সবাই একতা বদ্ধ হয়ে থাকবো।

  • ঝিনাইদহে সাপের কামড়ে আইনজীবী সহকারীর মৃত্যু

    ঝিনাইদহে সাপের কামড়ে আইনজীবী সহকারীর মৃত্যু

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সাপের কামড়ে হাসিবুল হাসান জনি (৪০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। জনি উপজেলার মোল্লাকুয়া গ্রামের মৃত. ইউছুপ আলীর পুত্র ও ঝিনাইদহ জেলা
    ও দায়রা জজ আদালতে আইনজীবী সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে সোমবার দিবাগত রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন জনি। ঘুমের মধ্যে বিষধর সাপে তার কানে কামড় দেয়। এসময় টের পেয়ে পার্শ্ববর্তী সুবিতপুর গ্রামের এক ওঝার কাছে নিয়ে ঝাড়ফুক করে। এরপর বাড়ি এসে আবার শুয়ে পড়ে। পরে জনি আরো অসুস্থ্য হয়ে পড়লে মঙ্গলবার (০৫ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টায় কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেসময় জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তার চিকিৎসা দিয়ে যশোর ২৫০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপতালে পাঠিয়ে দেন। সেখান থেকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপতালে নেওয়ার পথে মঙ্গলবার (০৫ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে তিনি মারা যান।

    কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শিশির কুমার সানা জানান, রাতে ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল মামুন দ্বায়িত্বে ছিলেন। তবে, রোগীর অবস্থা শেষ পর্যায়ে পৌছালে পরিবার তাকে হাসপাতালে এনেছিলেন। হাসপাতালে আনার পর রোগীকে এন্টিভেনম দেওয়া হয়। কিন্তু রোগীর অবস্থা খারাপ থাকায় যশোর রেফার্ড করা হয়। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • রামগড়-বারৈয়ারহাট সড়কে মৃত্যুর ফাঁদ, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা

    রামগড়-বারৈয়ারহাট সড়কে মৃত্যুর ফাঁদ, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা

    রামগড়-বারৈয়ারহাট প্রধান সড়ক এখন যেন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ছেন পথচারী ও যাত্রীরা। পুরো সড়কজুড়ে গর্ত, উঁচু-নিচু ভাঙাচোরা পিচ, আর পানি জমে থাকা অসংখ্য জায়গা যা স্বাভাবিক যানচলাচলকে করে তুলেছে দুর্বিষহ।

    এই সড়কটি খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলা শহরকে যুক্ত করেছে চট্টগ্রামের বারৈয়ারহাটের সঙ্গে। এটি শুধু একটি আঞ্চলিক নয়, বরং ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

    স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই। মাঝে মাঝে সামান্য খোঁড়াখুঁড়ি হলেও তা কিছুদিন পরই আরও ভয়াবহ অবস্থায় পরিণত হয়। বৃষ্টির সময় এই দুরবস্থা চরমে ওঠে। সড়কের গর্তগুলো তখন পানিতে ঢাকা পড়ে গিয়ে চালকদের জন্য মরণফাঁদে রূপ নেয়।

    সম্প্রতি একাধিক দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে এই সড়কে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই রাস্তায় প্রায়ই মোটরসাইকেল উল্টে পড়ে, ছোট গাড়ি গর্তে পড়ে গিয়ে যাত্রী আহত হয়। কিছুদিন আগেই এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা শুনেছি।”

    স্থানীয়রা রামগড় সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তাঁরা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে এই সড়কের উন্নয়ন কার্যক্রমে কোনো নজর দেওয়া হয়নি। অথচ এটি একটি উপজেলা সদরের প্রধান সংযোগ সড়ক।

    রামগড় উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, “এই রাস্তায় যে কেউ যেকোনো সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। সড়কের এমন অবস্থা কোনো সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না। সড়ক ও জনপদ বিভাগের অবহেলা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।”বিগত কয়েকদিন আগে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভুইয়ার নির্দেশনায় আমরা কিছুটা রাস্তা সংস্কার করেছি আমাদের বিএনপি পরিবারের উদ্যোগে।

    স্থানীয়রা দ্রুত সড়কটি পূর্ণ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এবং সেই সঙ্গে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • ঝিনাইদহে টানা বৃষ্টিতে পানির নিচেই হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি

    ঝিনাইদহে টানা বৃষ্টিতে পানির নিচেই হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি

    ঝিনাইদহে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি পানির নিচেই তলিয়ে গেছে। কোথাও তলিয়ে গেছে সবজি ক্ষেত, আবার কোথাও ডুবে গেছে ধানের বীজতলা ও সদ্য রোপণ করা আমনের জমি। এছাড়াও ভেসে গেছে বেশ কিছু পুকুর। পুকুর ভেসে গিয়ে হাজার হাজার টাকার মাছ পুকুর থেকে বের হয়ে গেছে। এরি ফলে ক্ষতিগ্রহস্ত হয়ে পড়েছে অত্র অঞ্চলের মৎস্য চাষিরা। সকলেই সরকারের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

    কৃষকরা জানান, ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, কালীগঞ্জ, হরিণাকুন্ডু ও শৈলকূপা এই ছয়টি উপজেলার মাঠ ও বিলে টানা বৃষ্টির কারণে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত সরতে পারছে না। এতে সদ্য রোপণ করা আমন ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি মরিচ, পটলসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেতও পানিতে তলিয়ে নষ্ট হচ্ছে।

    সদর উপজেলার বিষয়খালী গ্রামের কৃষক রনিকুল ইসলাম জানান, আমার দশ কাটা জমির ধান পানিতে তলিয়ে আছে। কবে নাগাদ পানি সড়বে সেটা তো বলতে পারছিনা। তবে পানি সড়ে গেলে আবারও নতুন করে ধানের চারা রোপন করতে হবে।

    সদর উপজেলার লাউদিয়া এলাকার কৃষক রিয়াদ হোসেন জানান, আমার চার বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে আছে। তবে পানি সড়ে গেলে আবারও নতুন করে ধানের চারা রোপন করতে হবে। কিন্তু সমস্য একটাই ধানের চারা পাবো কোথায়। ধান পানি হবার আগেই লাগানো সম্পন্ন হয়েছিলো। এখন ধানের চারা যদি না পায় তাহলে চলতি বছর আর ধান লাগানো সম্ভব হবেনা। তাই আমি এখন কি করবো বুঝতে পারছি না।

    কোটচাঁদপুর উপজেলার গুড়পাড়া গ্রামের কৃষক শরিফ হোসেন জানান, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে আমার এক বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে আছে। পানি সড়ে গেলে আবারও ধানের চারা রোপন করবো আশা করছি। আগের রোপনকৃত সকল চারা পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে আমাদের উপজেলার কৃষকরা ব্যপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কমবেশী সকল কৃষকের ক্ষতি হয়েছে যা পুষিয়ে উঠতে সময় লাগবে।

    কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গি গ্রামের কৃষক বিল্লাল হোসেন জানান, টানা বৃষ্টিতে আমার দুই বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে আছে। পানি সড়ে গেলে আবারও ধানের চারা রোপন করবো আশা করছি। আগের রোপনকৃত সকল চারা পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে আমাদের উপজেলার কৃষকরা ব্যপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

    মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কৃষক অনিক বিশ্বস জানান, আমারসহ এলাকার অনেক কৃষকের আমন ধান ক্ষেত পানিতে ডুবে আছে। যানিনা এবার ধানের কপালে কি আছে। তবে আমার মতো চিন্তার ভাজ এলাকার সকল কৃষকের। কারন একটায় এবার আমন ধান ঘড়ে তুলতে পারবো কিনা।

    মহেশপুরের কৃষক শহিদুল মন্ডল জানান, এলাকার অনেক কৃষকের আমন ধান ক্ষেত পানিতে ডুবে আছে। তবে যানিনা এবার ধানের কপালে কি আছে। আমার মতো চিন্তার ভাজ এলাকার অসংখ্য কৃষকের।

    কালীগঞ্জ উপজেলার তেতুলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক বিপলু জানান, আমার দশ কাটা মরিচ ও দশ কাটা পটল ক্ষেত পানিতে তলিয়ে আছে। পানি সড়ার সাথে সাথে গাছগুলো মড়তে থাকবে। তাই এবার আমি মরিচ ও পটলের আবাদ করে যে টাকা খরচ করেছিলাম সে টাকা উঠার তো প্রশ্ন নেই বরং আরও লস হলো। কারণ আমি এখনও ক্ষেত থেকে কোন কাচাঁ মালামাল বিক্রী করতে পাড়িনি।

    হরিণাকুন্ডু উপজেলার চারাতলা গ্রামের কৃষক তুষার হোসেন জানান, আমার এক বিঘা জমিতে আমন ধান করেছিলাম কিন্তু টানা বৃষ্টির কারনে তা তলিয়ে গেছে। এখন আমি কি করবো সেটাই বুঘতে পাড়ছিনা।

    শৈলকূপা উপজেলার ধলহরাচন্দ্র গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, আমার দশ কাটা মরিচ, দশ কাটা পটল, পাচঁ কাটা বেগুন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে আছে। পানি সড়ার সাথে সাথে গাছগুলো মড়তে থাকবে। আমি এ ক্ষতি কিভাবে পুষিয়ে উঠবো বুঝতে পারছিনা।

    অনেক এলাকায় জমিতে এখনও পানি জমে থাকায় নতুন করে ধান রোপণ করতেও পারছেন না কৃষকরা। এতে তারা চরমভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ষষ্ঠি চন্দ্র রায় জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে কিছু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা জলাবদ্ধতার রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। যেখানে যেখানে বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিলো ইতি মধ্যে সেগুলো অপসারণ করা হয়েছে। বাকি সে সকল বাঁধ এখনও অপসারণ করা হয়নি সেগুলোও অপসারণের চেষ্টা করে যাচ্ছি।

    কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ঝিনাইদহের ছয়টি উপজেলায় ইতোমধ্যে ৭ হাজার ৫০০ হেক্টরের বেশি ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।