পবিত্র রমজান শুরু হতেই ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে গেছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। বাজারে প্রশাসনের কার্যকর মনিটরিং না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
রমজানের আগে বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা থাকলেও রোজা শুরু হতেই চিত্র পাল্টে গেছে। তৈরি হয়েছে এক ধরনের অদৃশ্য উত্তাপ। ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝেই দেখা যাচ্ছে হতাশা ও উদ্বেগের চিত্র। অনেক ক্রেতার দাবি, প্রশাসনের তদারকির ঘাটতিই এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার, সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় তজুমদ্দিন উপজেলার শশীগঞ্জ বাজার, ডাওরী বাজার ও খাসের হাটসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাত্র ৩/৪ দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বেগুন ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা
শসা ৪০ টাকা থেকে ১০০ টাকা
মুরগি ১৬০ টাকা থেকে ১৯০ টাকা
লেবু ৩০ টাকা থেকে ৬০-৭০ টাকা
খেজুরে প্রতি কেজিতে ৮০-১০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি
ছোলা ১০০ টাকা থেকে ১১০-১২০ টাকা
পেঁয়াজ ৫৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা
সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, প্রতিবছর রমজান এলেই একই দৃশ্যপট দেখা যায়। যথাযথ মনিটরিং ও কঠোর নজরদারি না থাকায় বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তারা নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, রমজানের আগ থেকেই জেলা প্রশাসন বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও মজুদ পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে খুব শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে।
রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি—এমনটাই মনে করছেন উপজেলার সচেতন মহল।