রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে ডেকে এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাংশা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে পাংশা থানাধীন সরিষা ইউনিয়নের বহলাডাঙ্গা গ্রামের সরকারি আশ্রয়ণ কেন্দ্রের একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে পাংশার সরিষা ইউনিয়নের বহলাডাঙ্গা গ্রামের মকবুল মণ্ডলের ছেলে আকাশ মন্ডল(২৮) এবং একই ইউনিয়নের বাজেয়াপ্ত বাগলী গ্রামের মো. আরশেদ মণ্ডলের ছেলে জামাল মন্ডলের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী তরুণী ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি গাজীপুর মহানগর এলাকায় বসবাস করছেন।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের জয়নাল শেখের ছেলে সজল (২৩)-এর সঙ্গে প্রায় সাত মাস আগে টিকটকের মাধ্যমে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদের সম্পর্কের অবসান ঘটে। এরপর সজলের বন্ধু আকাশ মণ্ডল তাকে ফোন করে পাংশায় এলে সজলের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়।
এর প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী গাজীপুর থেকে পাংশায় আসেন। পরে তাকে সরিষা ইউনিয়নের বহলাডাঙ্গা গ্রামের সরকারি আশ্রয়ণ কেন্দ্রের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আকাশ মণ্ডল ও জামাল মণ্ডল পর্যায়ক্রমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তার কাছে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা ও স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে নেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভোক্তভোগী তরুনীকে রাাজবাড়ী সিএস অফিসে মেডিক্যাল টেষ্ট্র পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।