কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ফাইপুটা বিলে অতি বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া শতাধিক কৃষকের ধানের বীজতলা রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা। তাঁর সময়োচিত হস্তক্ষেপে পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
জানা যায়, গত কয়েকদিনের টানা অতি বৃষ্টিতে পুমদী ইউনিয়নের ফাইপুটা বিলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথটি স্থানীয় দু-একজনের জায়গার ওপর দিয়ে হওয়ায়, তারা পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করেন। এতে টানা দুইদিন পানির নিচে ডুবে থাকে স্থানীয় শতাধিক কৃষকের আমন মৌসুমের রোপণ উপযোগী ধানের বীজতলা। কৃষকরা আশঙ্কা করছিলেন, পানি নামতে আরও দেরি হলে পুরো বীজতলা নষ্ট হয়ে যেত এবং এতে করে তাদের পুরো মৌসুমই হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হতো।
বিপাকে পড়া কৃষকরা বাধ্য হয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে কথা বলেন এবং পানি নিষ্কাশনে বাধা দেওয়া ব্যক্তিদের ডেকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করেন। ইউএনও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “জনস্বার্থে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইউএনওর এমন কঠোর ও দ্রুত নির্দেশনার পর তাৎক্ষণিকভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে বীজতলা থেকে দ্রুত পানি নামতে শুরু করে এবং কৃষকরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন।
স্থানীয় কৃষক রাব্বি মিয়া আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “দুইদিন ধরে চোখের পানি ফেলছিলাম। বীজতলা সব শেষ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। স্যার এসে নির্দেশ দেওয়ায় এখন পানি নামছে। আল্লাহ স্যারকে ভালো রাখুক।”
আরেক কৃষক জানান, “আমরা সাধারণ কৃষক, একটা বীজতলা নষ্ট হওয়া মানে সারাবছর কষ্ট করা। ইউএনও স্যার সময়মতো না আসলে আমরা পথে বসতাম।”
কৃষকদের আশ্বস্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “কৃষকের ফসল রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। দুর্যোগের এই সময়ে সবাইকে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। জনস্বার্থের কাজে বাধা দিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
পাশাপাশি, তিনি কৃষি অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদকে ক্ষতিগ্রস্ত বীজতলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন জানান, অতি বৃষ্টিতে উপজেলার পুমদী, সিদলা ও জিনারীসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় কিছু বীজতলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দক্ষিণ পুমদীর ঘটনায় ইউএনও মহোদয়ের হস্তক্ষেপে সময়মতো পানি নিষ্কাশন সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো গেছে।