বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজবাড়ীতে ৮ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, ধামাচাপার চেষ্টা,ধর্ষক গ্রেপ্তার লালমনিরহাটে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড রাজবাড়ীতে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাব’জ্জী’বন নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঘুন্টি-বেলতলী সড়কে যান চলাচল বন্ধ,চার লেনসহ চার দফা দাবি রাজবাড়ী জেলা বিএনপি কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের আগুন, লাইট-ব্যানার ভস্মীভূত চাটমোহর থানায় মাদকবিরোধী অভিযান: ১৪ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার তথ্য গোপন করে একাধিক পেশায় যুক্ত থাকার অভিযোগ, কাজির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ পাংশায় মালিককে রসমালাইয়ে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করে চুরি, ১৫ ভরি স্বর্ণ ও ২২০ ভরি রুপার গহনা উদ্ধার আদিতমারীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দখলের অভিযোগ, ড্রিল মেশিনে দরজা কেটে বৃদ্ধা মা-মেয়েকে পিটিয়ে আহত

লালমনিরহাটে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

মিলন কুমার, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :
  • আপডেটের সময়: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪৯ সময় দেখুন

লালমনিরহাটে স্ত্রী মিতু আক্তারকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় স্বামী মো. আতিকুল ইসলামকে (৩০) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আতিকুল ইসলাম আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
নিহত মিতু আক্তার লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের গোকুন্ডা দাড়ারপাড় মুন্সিটারী এলাকার বাসিন্দা। দণ্ডপ্রাপ্ত আতিকুল ইসলাম একই এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে আতিকুল ইসলামের সঙ্গে মিতু আক্তারের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের পাঁচ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান ছিল। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মিতুকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে মিতুকে গালিগালাজ করেন আতিকুল। ওই রাতে তিনি কাজের উদ্দেশ্যে পাবনায় যাওয়ার কথা জানালে স্ত্রী মিতু তাকে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আতিকুল প্রথমে মিতুর মাথা ও মুখে কিল-ঘুষি মারেন। পরে ঘরের উঠানে থাকা একটি শক্ত প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মিতুর মৃত্যু হয় বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে। ঘটনার পর রাতেই আতিকুল পালিয়ে যান।
পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সকালে মিতু ও আতিকুলের পাঁচ মাস বয়সী শিশুকন্যা আতিকা আক্তারের কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা তাদের বাড়িতে যান। পরে ঘরের ভেতর বিছানায় মিতুর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহত মিতুর বাবা মো. ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের ৪ জুলাই আসামি আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের সাক্ষ্য, উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত আতিকুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন বলেন, আদালত মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে এ রায় দিয়েছেন। তিনি বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে নারী নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি আইনি বার্তা প্রতিষ্ঠিত হলো।
এপিপি আরও জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার আইনগত সুযোগ রয়েছে।
আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত মিতু আক্তারের পরিবার। তারা দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 রংধনুটিভি
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD