‘এসপি ফোন করে বলেছিলেন বাবু সাহেব কাল থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় যাবেন না’
বিজিএমইএ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেছেন, দিনের ভোট রাতে হয়ে গেছে, আপনার ভোট আরেকজন দিয়ে গেছে। ভোট কেন্দ্রে আমি, আপনি, আমরা যেতে পারিনি। স্মৃতি, দুঃস্বপ্ন বলব, স্মৃতি বলবো না। ১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে আমি নির্বাচন করেছিলাম। ৩০-শে ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ ছিল। প্রকাশ্যে জনসভায় এখানে বলতে কোনো দ্বিধা নাই, ২৫-শে ডিসেম্বর এসপি সাহেব ফোন করলেন, বাবু সাহেব কাল থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় যাবেন না। কেন যাব না? আপনার নিরাপত্তা দিতে পারব না। আমি বলেছিলাম, নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি, রাজনীতি করি আমি, আপনি নিরাপত্তা দিবেন কী দিবেন না এটা আপনার বিষয়। আমি ঠিকই নির্বাচনী প্রচারণায় যাব। ২৬ তারিখ আমি উথলীতে, আমার সাথে যারা সফরসঙ্গী নির্বাচনী প্রচারণায় ছিলেন তাদের রক্তাক্ত শরীর নিয়ে আমাদের ফিরে আসতে হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের সাহায্য সহযোগিতা করেনি। হয়তো ১৮ সালে আমরা নির্বাচন করতে পারিনি। কিন্তু আমাদের সংগ্রাম, আমাদের আন্দোলন বীথা গিয়েছে?
আজ শনিবার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নে নির্বাচনী পথসভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এদিন কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের পথসভা করেন মাহমুদ হাসান খান বাবু।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, প্রকাশ্যে দিবালোকে। কোনো দলের মতো আমরা গুপ্তচরের মতো গোপন রাজনীতি করিনি। দলের ভেতর দল তৈরি করি নাই। আমরা জিয়ার দল করি, প্রকাশ্যে দিবালোকে সব সময় একই কথা বলি। আমরা বিএনপি করি, আমরা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করি। আমরা দলে ভেতরে ঢুকি, গোয়ান্দাগিরি করি নাই। আমরা যেটা করি নাই, আমাদের ইমান বিক্রি করি নাই। আমরা কেবলা পরিবর্তন করি নাই। যারা আজকে আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তারা এদেশের স্বধীনতায় বিশ্বাস করে না।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি বলেন, ১৯৭১ সালে তাদের কী ভূমিকা ছিল আমরা জানি। এখন বাংলাদেশের মানুষের জন্য তাদের মায়া কান্না। যারা আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, তাদের এই মায়া কান্না একটি বিবরান্তি তৈরি করা বিষয়। এটা আমরা ইতিমধ্যেই বুঝে গেছি। বুঝে গেছি বলেই তারা উন্নয়নের কথা বলে না। বুঝে গেছি বলেই তারা শিক্ষাব্যবস্থার কথা বলে না। স্বাস্থ্যব্যবস্থার কথা বলে না। কৃষির উন্নয়নের কথা বলে না। কী বলে? তারা বলে, বেহেশতের টিকিটি বিক্রির কথা। এগুলো আজ থেকে ১০ বছর, ১৫ বছর আগে চলত। এসব অচল জিনিস এখন আর চলে না। কীভাবে বেহেশতে যাওয়া যায়, কী করলে বেহেশতে যাওয়া যায় আমরা জানি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিলটন, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম, দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি খাঁজা আবুল হাসনাত, কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলি ভুট্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম টুটুল প্রমুখ।