ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে বসতবাড়ি উচ্ছেদ বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার।
১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, শুক্রবার বেলা ১১টায় তজুমদ্দিন উপজেলার ৩নং চাঁদপুর ইউনিয়নের দালাল কান্দি বেড়িবাঁধের ওপর এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন সকাল ১০টায় উপজেলার ১নং ওয়ার্ডের গন ভূইয়া বাড়ির দরজার বেড়িবাঁধ এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানববন্ধন করে পরে দালাল কান্দিতে এসে একত্রিত হন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে মেরিন ড্রাইভের জন্য হাইওয়ে বেড়িবাঁধ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালে নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধটি সংস্কারের নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই খামখেয়ালি ও অপরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি উচ্ছেদ করছে। এতে শত শত পরিবার খোলা আকাশের নিচে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, জমির মালিকদের কোনো ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই কয়েকদিন ধরে এক্সাভেটর দিয়ে ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। মানববন্ধনে ক্ষতিগ্রস্ত হাসান ভূইয়া বলেন, উচ্ছেদে বাধা দিলে ঠিকাদারের লোকজন ১৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, কিন্তু তা তারা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি আরও বলেন, বেড়িবাঁধ সোজা করার জন্য পূর্ব পাশে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও পশ্চিম দিকে কাজ করায় শত শত পরিবার ভিটেমাটি হারানোর মুখে পড়েছে।
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত তানবীন হাসান বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ছাড়া কাউকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা আইনবিরোধী। তিনি অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের সুবিধার্থে উত্তর ও দক্ষিণ অংশে পূর্ব দিক দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করলেও এ এলাকায় নিজেদের স্বার্থে পশ্চিম দিকে কাজ করতে চাচ্ছে। কাজের ধীরগতির কারণে সরকারের চাপ থাকায় এখন তড়িঘড়ি করে বসতবাড়ি উচ্ছেদ করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী তানবীর হাসান জানান, হাইওয়ে বেড়িবাঁধ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ বাবদ ক্ষতিপূরণের কোনো বরাদ্দ নেই। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের সুযোগও নেই। তবে এলাকাবাসীর দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল ইসলাম বলেন, বসতবাড়ি উচ্ছেদের অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্যাগুলো তুলে ধরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ে একটি দরখাস্ত পাঠানো হয়েছে।