ময়মনসিংহের ত্রিশালের হরিরামপুর রায়ের গ্রামের বাসিন্দা, মরহুম হারিস ডাকাতের বড় ছেলে, মোঃ সোহাগ মিয়া, শশুর বাড়ি থেকে তার বোনকে দিয়ে বাচ্চাটি এনে নিজহাতে গলা টিপে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কি কারনে মেরেছে তা এখনো জানা যায়নি ছেলেটির বয়স আনুমানিক ৩ থেকে ৪ বছর, কি রকম সীমার নরপিশাচ হলে নিজের সন্তানকে নিজ হাতে গলা টিপে হত্যা করতে পারে? ঘটনা সুত্রে জানা যায় এই সোহাগ মিয়া দীর্ঘদিন যাবত সম্পর্ক করে মেয়ের পিতা-মাতার অবাধ্যতার মধ্যেই বিয়ে করেন। বিয়ের করার ১ বছর পর তাদের এই নিষ্পাপ সন্তানটি জন্মগ্রহন করে। কিন্তু এই সন্তান রেখেই সে অন্য আর একটি বিয়ে করেন। এই ক্ষোভে তার প্রথম স্ত্রী তার সংসার ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে আসে। বাপের বাড়ি থেকে চাকরি করে নিজের সন্তান কে লালন পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং লালন পালন করে আসতেছিল। এর মধ্যে সে নরপিশাচ ঘাতক স্বামী তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু সে আর স্বামীর সংসার করবে না এই সিদ্ধান্তে অটল থাকে। ঘাতক স্বামী বলে তুই না গেলে আমার ছেলেকে দিয়ে দে আমার কাছে। ছেলের মা বলে আমার জীবন গেলেও আমি আমার সন্তান কে দিব না। আনুমানিক ধারণা এই ক্ষোভেই হয়ত এই নরপিশাচ পিতা ৩/৪ বছরের নিষ্পাপ শিশুটিকে গলা টিপে হত্যা করে এই ঘাতক।
Author: admin
-

ত্রিশালে প্রেমের বিয়ের পরেও পুনরায় বিয়ে করে ১ম স্ত্রীর শিশু সন্তান কে গলা টিপে হ ত্যার অভিযোগ
ত্রিশাল থানা সূত্রে জানানো হয়:-ইং ০১/০৪/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৬.৩০ ঘটিকার সময় ত্রিশাল থানাধীন হরিরামপুর ইউনিয়নের রায়েরগ্রাম ভাটিপাড়া এলাকায় ৩ বছর বয়সী শিশু লাবিব হত্যার ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির পর দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া জানা যায় যে, নিহত শিশু লাবিব (৩) স্থানীয় বাসিন্দা লামিয়া আক্তারের সন্তান। সোহাগ, পিতা-মৃত হারিজ ডাকাত, সাং-রায়েরগ্রাম, থানা-ত্রিশাল, জেলা-ময়মনসিংহ নিহত শিশুটির পিতা। স্থানীয় সূত্রে প্রথমিক ভাবে জানা যায়, ডিসিসটের পিতা সোহাগ চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন এবং নিহত শিশুর মা লামিয়া তার তৃতীয় স্ত্রী। পারিবারিক কলহের জেরে দীর্ঘদিন ধরে লামিয়া তার সন্তান লাবিবকে নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। নিহতের নানা মোঃ মোজাম্মেল হক (ওজা মিয়া) জানান, ইং ০১/০৪/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ০৩.০০ ঘটিকার সময় ভিকটিমের পিতা সোহাগ ভিকটিম লাবিব (৩) কে তাহার নানার বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে নানার বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে একই তারিখ সন্ধ্যা ০৬.৩০ ঘটিকার সময় ভিকটিম এর নানার বাড়ি থেকে প্রায় ৮০০ গজ দূরে ইলিয়াসের বাড়ির পাশে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ভিকটিম লাবিব (৩) এর মৃতদেহ দেখতে পেয়ে ত্রিশাল থানা পুলিশকে খবর দিলে ত্রিশাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া মৃতদেহ সুরতাল রিপোর্ট প্রস্তুত করতঃ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। -

হোসেনপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ১লক্ষ টাকা জরিমানা
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে একজনকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিকেলে এই অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেলে সাহেবের চর বক্ষ্রপুত্র নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ম্যাজিস্ট্রেট) কাজী নাহিদ ইভা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসী মাসনাদ।
‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ লঙ্ঘন করে নদী থেকে অবৈধভাবে বেকু দিয়ে বালু উত্তোলনের সময় অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩) অনুযায়ী অপরাধ স্বীকার করায় তাকে ১লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাহিদ ইভা জানান, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাশে থাকা ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে । আইন অমান্য করে যারা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।” জনস্বার্থে এবং নদী রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। -

মেহগনি গাছের ডালের আঘাতে ফুলবাড়িয়ায় বাবা নিহত, ছেলে-নাতি গ্রেফতার
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ছেলের আঘাতে এক বৃদ্ধ পিতার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের খালইপুড়া (ভাটিপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি হোছেন আলী (৯০)। এ ঘটনায় তার ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৫) ও নাতি ইব্রাহীম খলিল (২৫)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় প্রতিবেশী আবুল কাশেম সরকার জানান, হোছেন আলীর তিন ছেলে রয়েছে। সম্প্রতি মেঝো ছেলে চান মিয়া বসতঘরের পাশে একটি টয়লেট নির্মাণ করেন। টয়লেটের পাইপ স্থাপনকে কেন্দ্র করে চান মিয়ার সঙ্গে রফিকুল ইসলামের বিরোধের সৃষ্টি হয়। শনিবার দিবাগত রাতে রফিকুল ও তার ছেলে ইব্রাহীম পাইপটি ভেঙে ফেলে।
এর জেরে রোববার সকালে বাবা হোছেন আলী চান মিয়ার পক্ষ নিয়ে প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে রফিকুল ইসলাম মেহগনি গাছের ডাল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত ছেলে ও নাতিকে নজরদারিতে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং রফিকুল ইসলাম ও ইব্রাহীম খলিলকে গ্রেফতার করে।
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল্লাহ সাইফ জানান, পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
-

দৌলতদিয়ায় বাসডুবিতে আর কোন লাশের দাবিদার না থাকায় উদ্বার অভিযান সমাপ্ত
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে বাসডুবির ঘটনায় আর কোনও নিখোঁজের দাবি না থাকায় উদ্ধার অভিযান গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে যে পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পরেছিল সেটি সরিয়ে পানিরে অতলে অধিতর তল্লাশি চালিয়েও কিছু পাওয়া যায়নি। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে পন্টুনটি সরিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, ‘সবশেষ নিখোঁজ দাবি করা ইটভাটা শ্রমিক রিপনের সন্ধান মিলেছে ঢাকায়। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন। ফলে বর্তমানে আর কোনও নিখোঁজ ব্যক্তি নেই। এজন্য উদ্ধার অভিযান শেষ করা হয়।’ তিনি জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ১০টার দিকে ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনটি সরিয়ে উদ্ধারকারীরা পুনরায় তল্লাশি চালান। তবে শনিবার সকাল থেকে দুপুর সাড়ে পাচটা পর্যন্ত যে স্থানে পন্টুন থেকে বাসটি ডুবে গিয়েছিল ,মুলত সেই পন্টুন সরায়ে ওই স্থনের অতলে ডুবুরী দল তল্লাশী করেছে। এছাড়াও স্পিডবোট ব্যবহার করে নদীর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে, কোনো মরদেহ ভেসে গেছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে। কিন্তু কোথাও কোন লাশ পাওয়া যায়নি। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে চর্তুথ দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চালায় রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা এ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চর্তুথ দিনের মতো সকাল ৯টা থেকেই উদ্ধার অভিযান চলছে এবং এতে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল অংশ নিয়েছে। উদ্বার কার্যক্রম শনিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলার পর কোন লাশের সন্ধান না পাওয়ায় উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় শনিবার সন্ধ্যায় উদ্বার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। এদিকে শনিবার দুপুরে বাস ডুবি দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের এবং নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে বলেন, ‘দুর্ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্তের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’ তবে নিখোঁজের দাবি না থাকায় উদ্ধার অভিযান শনিবার সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এতে এখন তদন্ত কমিটির কাজে সহায়ক হবে। উল্লেখ্য,গত বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত মোট ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
-

অটোর ধাক্কায় প্রাণ গেল ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের হাজিরগল গ্রামে অটোরিকশার ধাক্কায় মো. রাকিব (১৭) নামে এক ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে আনুমানিক ৫ঘটিকায় নীলগঞ্জ রেল স্টেশন ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাকিব একই এলাকার মো. সওদাঘরের ছেলে এবং নীলগঞ্জ হাজি মোমতাজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০ম শ্রেণির ছাত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাকিব তার নানার বাড়ি চৌধুরীহাটি থেকে ফেরার পথে বাড়ির নিকটবর্তী এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি বেপরোয়া অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি রাস্তার পাশে থাকা একটি বাড়ির টিনের বাউন্ডারিতে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচা ইয়াকুব আলী জানান, রাকিবের বাবা একজন কলের মিস্ত্রি এবং দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তিন সন্তানের মধ্যে রাকিব ছিল বড়। পরিবারের আর্থিক কষ্টের কারণে মাঝে মাঝে সে নিজেও অটোরিকশা চালিয়ে সংসারে সহযোগিতা করত।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর অটোরিকশাটি আটক রাখা হয়েছে। চালকের বাড়ি তাড়াইল উপজেলার খরমশি গ্রামে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে। তারা শনিবার ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবেন। সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
-

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনায় কিশোরগঞ্জে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন
যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, সিভিল সার্জন ডাঃ অভিজিত শর্মা এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মোঃ মাহামুদুল ইসলাম জানু।
জেলা প্রশাসক আসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, লাখো শহীদের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা জাতির জন্য চিরস্মরণীয়। তারা উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তারা বলেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে এবং নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে।
বক্তারা আরও বলেন, ১৯৭১ সালে এই দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ডাকে দেশের সর্বস্তরের মানুষ দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর অর্জন করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই অর্জনকে সমুন্নত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠান শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।
-

বড়লেখায় চুরির জেরে সামাজিক বিচার নিয়ে অপপ্রচার, ব্যবসায়ি সমিতির সংবাদ সম্মেলন
বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ বাজারে বণিক সমিতির কার্যালয়ে গত ২৩ মার্চ রোজ সোমবার রাতে নারিকেল চুরির ঘটনায় সামাজিক বিচার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অপপ্রচারের ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার ব্যাখা দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন জানান, গত ২২ মার্চ দক্ষিণভাগ বনিক সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক বরাবরে সাবেক এমপি মরহুম আলহাজ¦ ইমান উদ্দিন আহমেদ সাহেবের মার্কেটের দায়িত্বরত মো. তাহির আলী, একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, গজভাগ গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আলী হোসেন মান্না ও দোহালিয়া গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে ফৈয়াজ আহমদ ফইয়া এমপি সাহেবের মালিকানাধীন নারিকেল গাছ থেকে ২২টি নারিকেল চুরি করে নিয়ে গেছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৩ মার্চ রাত ৯.০০ ঘটিকার সময় দক্ষিণভাগ বনিক সমিতির কার্যালয়ে সমিতির সভাপতি/সম্পাদক ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ ও এলাকার স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদ্বয় ও অভিযোগকারীকে নিয়ে বিচার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিচারে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ স্বীকার করেন যে, তারা মরহুম ইমান উদ্দিন এমপি সাহেবের মালিকানাধীন ভূমির নারিকেল গাছ হতে ২২ (বাইশ) টি নারিকেল চুরি করেছেন। এছাড়াও বিগত সময়ে বাজারের আরো নারিকেল চুরি হয়েছে বলে অনেক অভিযোগ রয়েছে, যা হাতে নাতে ধরা যায়নি। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ ভবিষ্যতে এ ধরনের চুরির মতো ঘৃনিত কাজ করবেন না মর্মে মৌখিকভাবে জানান এবং সেই সকল উপস্থিত বিচারকগণের সিদ্ধান্ত মোতাবেক উৎসুক জনতা ও জনরোষ থেকে বাচাঁনোর জন্য আলী হোসেন মান্নার পিতা আবুল হোসেন—কে তার ছেলে আলী হোসেন মান্নার বিচার করার জন্য বলা হলে তিনি তার আত্মীয় বিশিষ্ঠ সমাজসেবক হাফিজ খলিলুর রহমান শাহীন সাহেবকে বিচার করার জন্য অনুরোধ জানান। আবুল হোসেনের বার বার অনুরোধের প্রেক্ষিতে হাফিজ খলিলুর রহমান শাহীন শুধুমাত্র ভবিষ্যতে চুরির মতো কোনো অপরাধ না করার জন্য শাসন করতে গেলে আকস্মিকভাবে আলী হোসেন মান্না উপস্থিত মুরব্বীয়াগণের সম্মুখে চরমভাবে বেয়াদবী ও অশালীন নোংরা/খারাপ ব্যবহার করতে থাকে। তখন তার পিতার অনুরোধে বাধ্য হয়ে তিনি তাকে শারিরীকভাবে শাসন করেন। যা শুধুমাত্র তার পিতা আবুল হোসেনের আদেশ ও অনুরোধে। হাফিজ খলিলুর রহমান শাহীন সাহেব ব্যক্তিগত কারণে আলী হোসেন মান্নাকে আঘাত করেন নাই। মূলত বনিক সমিতির এই বিচারে হাফিজ খলিলুর রহমান শাহীনকে উক্ত আলী হোসেন মান্নাই নিয়ে আসেন।
কিন্তু অতিব দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আলী হোসেন মান্নার চরম বেয়াদবি ও বিভিন্ন পূর্বের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের কারনে উৎসুক জনতার মধ্য থেকে কে বা কাহারা হাফিজ খলিলুর রহমান শাহীন কর্তৃক শাসনের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রচার হওয়ায় বাজার বণিক সমিতি ও হাফিজ খলিলুর রহমান শাহীনের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
পরবর্তীতে উক্ত আলী হোসেন মান্না তার নিজের ফেইসবুক আইডি হতে লাইভে গিয়ে নোংরা ভাষায় তার পিতা আবুল হোসেন, বনিক সমিতির সভাপতি/সম্পাদক সহ পরিচালনা কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ এবং হাফিজ খলিলুর রহমান শাহীনকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আলী হোসেন মান্নার এমন কর্মকান্ডের জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হক, সহসভাপতি ইসলাম উদ্দিন, সহসাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক সনজিত দাস, ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ফারুক আহমদ, সদস্য আব্দুস সহিদ পটল, আজিজ আহমদ, শাহীন আহমদ, অভিযোগকারি তাহির আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
-

২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার, নাম ঠিকানা দেখুন, আপনার পরিচিত কেউ আছে কি না এই তালিকায়
২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার, নাম ঠিকানা দেখুন, আপনার পরিচিত কেউ আছে কি না এই তালিকায়..
১)রেহেনা আক্তার(৬১)
স্বামী- মৃত ইসমাঈল হোসেন খান,
গ্রাম- ভবানীপুর, লালমিয়া সড়ক, রাজবাড়ী পৌরসভা, রাজবাড়ী।২) মর্জিনা খাতুন(৫৬)
স্বামী- মো: আবু বক্কর সিদ্দিক, গ্রাম- মজমপুর, ওয়ার্ড নং-১৮, কুষ্টিয়া পৌরসভা, কুষ্টিয়া।৩) রাজীব বিশ্বাস(২৮)
পিতা- হিমাংশু বিশ্বাস, গ্রাম+ডাকঘর – খাগড়বাড়ীয়া, থানা- কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া।৪) জহুরা অন্তি(২৭)
পিতা- মৃত ডা: আবদুল আলীম, গ্রাম- সজ্জনকান্দা, ৫ নং ওয়ার্ড, রাজবাড়ী পৌরসভা।৫) কাজী সাইফ(৩০)
পিতা- কাজী মুকুল, গ্রাম- সজ্জনকান্দা, ৫ নং ওয়ার্ড, রাজবাড়ী পৌরসভা।৬) মর্জিনা আক্তার(৩২)
স্বামী- রেজাউল করিম, গ্রাম- চর বারকিপাড়া, ইউপি- ছোট ভাকলা, উপজেলা- গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী।৭) ইস্রাফিল(৩)
পিতা- দেলোয়ার হোসেন, গ্রাম- ধুশুন্দু, ইউপি- সমাজপুর, উপজেলা-খোকসা, কুষ্টিয়া।৮) সাফিয়া আক্তার রিন্থি(১২), পিতা-রেজাউল করিম, গ্রাম- চর বারকিপাড়া, ইউপি- ছোট ভাকলা, উপজেলা- গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী।
৯) ফাইজ শাহানূর(১১)
পিতা- বিল্লাল হোসেন, গ্রাম- ভবানীপুর, ইউপি- বোয়ালিয়া, উপজেলা-কালুখালী, রাজবাড়ী।১০) তাজবিদ(৭)
পিতা- কেবিএম মুসাব্বির, ৫ং ওয়ার্ড, সজ্জনকান্দা, রাজবাড়ী পৌরসভা, রাজবাড়ী।১১) আরমান খান(৩১), পিতা- আরব খান, পশ্চিম খালখোলা, উপজেলা- বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ী।
(গাড়ির চালক)১২) নাজমিরা@ জেসমিন(৩০), স্বামী- আব্দুল আজিজ,
গ্রাম- বেলগাছি, ইউপি- মদেন্দ্রপুর, উপজেলা-কালুখালী, রাজবাড়ী।১৩) লিমা আক্তার(২৬)
পিতা- সোবাহান মন্ডল, গ্রাম-রামচন্দ্রপুর, ইউপি- মিজানপুর, রাজবাড়ী সদর, রাজবাড়ী।১৪) জোস্ন্যা(৩৫)
স্বামী- মান্নান মন্ডল, গ্রাম- বড় চর বেনি নগর, ইউপি- মিজানপুর, রাজবাড়ী সদর, রাজবাড়ী।১৫) মুক্তা খানম(৩৮)
স্বামী- মৃত জাহাঙ্গীর আলম, পিতা- সিদ্দিকুর রহমান, গ্রাম- নোয়াধা, ইউপি- আমতলী, উপজেলা-কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ।১৬) নাছিমা(৪০)
স্বামী- মৃত নূর ইসলাম,গ্রাম-মথুয়ারাই, ইউপি-পলাশবাড়ী, উপজেলা-পার্বতীপুর , দিনাজপুর ।১৭) আয়েশা আক্তার সুমা(৩০), স্বামী- মো: নুরুজ্জামান, গ্রাম- বাগধুনিয়া পালপাড়া, উপজেলা-আশুলিয়া, ঢাকা জেলা।
১৮) সোহা আক্তার(১১)
পিতা- সোহেল মোল্লা, গ্রাম-
রাজবাড়ী পৌরসভা, রাজবাড়ী।১৯) আয়েশা সিদ্দিকা(১৩)
পিতা- গিয়াসউদ্দিন রিপন, গ্রাম+ইউপি-সমসপুর, উপজেলা-খোকসা, কুষ্টিয়া।২০) আরমান(৭ মাস),
পিতা- নুরুজ্জামান, গ্রাম- খন্দকবাড়িয়া, ইউপি-কাচেরকোল, উপজেলা-শৈলকুপা, ঝিনাইদহ।২১) আব্দুর রহমান(৬)
পিতা-আব্দুল আজিজ, গ্রাম- মহেন্দ্রপুর, ইউপি-রতনদিয়া, উপজেলা-কালুখালী, রাজবাড়ী।২২) সাবিত হাসান(৮)
পিতা- শরিফুল ইসলাম,
গ্রাম- আগমারাই, ইউপি-দাদশি, রাজবাড়ী সদর, রাজবাড়ী।২৩) আহনাফ তাহমিদ খান(২৫)
পিতা-ইসমাইল হোসেন খান,
গ্রাম-ভবানীপুর, ৮নং ওয়ার্ড, রাজবাড়ী সদর।
রাজবাড়ি সদর হাসপাতালে মরদেহ সনাক্তকরণ চলছে। -

সিআইডি প্রধান হিসেবে যোগদান করেন রামগড়ের কৃতি সন্তান মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ
বাংলাদেশ পুলিশের নতুন সিআইডি প্রধান হিসেবে যোগদান করেছেন খাগড়াছড়ির রামগড়ের কৃতি সন্তান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
আজ ২৫ মার্চ বুধবার সিআইডি সদর দপ্তর, ঢাকায় এক বিদায়ী সংবর্ধনা ও বরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন সিআইডি প্রধান হিসেবে অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, বিপিএম-সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই অনুষ্ঠানে সদ্য বিদায়ী সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ, বিপিএম, পিপিএম-কে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
১৯৯৫ সালে ১৫ তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানকারী মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে পেশা দারিত্ব, দক্ষতা ও সততার স্বাক্ষর রেখে এসেছেন। সিআইডি প্রধান হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন ডিরেক্টরেটের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)-তে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং কুষ্টিয়া, ভোলা ও শেরপুর জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়েছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন; জাতিসংঘের African Union-United Nations Hybrid Operation in Darfur (UNAMID)-এ পুলিশ লিয়াজো অফিসার (P-4) হিসেবে দায়িত্ব পালন তার পেশাগত জীবনে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।
শিক্ষাগত জীবনে তিনি অপারেশন ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে MBA এবং Applied Criminology and Police Management বিষয়ে MACPM ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান, চীন ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেছেন, যা তাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষম করে তুলেছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি সিআইডিকে আরও গতিশীল, পেশাদার এবং জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সিআইডির অর্জিত সুনাম ধরে রাখতে হলে সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এককভাবে কোনো প্রধান বা ব্যবস্থাপক সফল হতে পারেন না—প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তাই প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাই প্রকৃত সহযোগিতা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বিশেষভাবে সততার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শুধু আর্থিক ক্ষেত্রেই নয়, বরং প্রতিটি কাজে সর্বোচ্চ সততা বজায় রাখতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা বা অনুপস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়—বিনা অনুমতিতে দায়িত্বস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশনাও প্রদান করেন তিনি। একই সঙ্গে সদস্যদের উৎসাহ ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দক্ষতার ঘাটতি থাকলে তা পূরণের জন্য সিআইডিতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক টুলস বিদ্যমান। তবে এরপরও কেউ দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহী থাকলে তার জন্য সিআইডিতে স্থান নেই বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক না হলে সিআইডির স্বার্থে এবং বাংলাদেশ পুলিশের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তিনি সিআইডিকে সাধারণ মানুষের কাছে একটি আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন, যাতে সিআইডির নাম শুনলেই জনগণের মনে আস্থা ও বিশ্বাস জন্মায়।
নবাগত সিআইডি প্রধান তার বক্তব্যে বিদায়ী সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ, বিপিএম-সেবা, পিপিএম-সেবা-এর কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং তার নেতৃত্বে সিআইডির যে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, তা ধরে রেখে ভবিষ্যতে উত্তরোত্তর উন্নতির প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিদায়ী প্রধান বর্তমানে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সেখান থেকেও সিআইডির কার্যক্রমে দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি বিদায়ী প্রধানের গৃহীত উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অসমাপ্ত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে তিনি বিদায়ী প্রধানকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।
বিদায়ী সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ, বিপিএম-সেবা, পিপিএম-সেবা তার বক্তব্যে আবেগঘনভাবে উল্লেখ করেন যে, সিআইডিতে তার দায়িত্ব পালনের সময়ে একটি দক্ষ, সমন্বিত ও প্রতিশ্রুতিশীল টিম গড়ে তোলাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, সিআইডি শুধুমাত্র একটি সংস্থা নয়, বরং এটি একটি পরিবার—যেখানে সকল সদস্য আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দলগতভাবে কাজ করে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন।
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, সিআইডি বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে শক্তিশালী তদন্ত সংস্থা এবং এই বিশ্বাস থেকেই তিনি দায়িত্ব পালন শুরু করেছিলেন। দায়িত্ব শেষে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সিআইডির কার্যক্রমে গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে মানিলন্ডারিং ও ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমের জটিল ও সংবেদনশীল মামলাগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করে একটি সুসংগঠিত অবস্থানে আনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তার দায়িত্ব পালনের সময় পেন্ডিং মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি তদন্ত কার্যক্রমে ক্রাইম সিন প্রটেকশন ও প্রাথমিক পর্যায়ে ফিজিক্যাল এভিডেন্স সংগ্রহের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, “ক্রাইম সিন সুরক্ষা তদন্তের মূল ভিত্তি।” সিআইডির দক্ষ ফরেনসিক টিমের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে এভিডেন্স-ভিত্তিক তদন্ত জোরদার করার আহ্বান জানান, যাতে তদন্ত আরও নির্ভুল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হয় এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সহজতর হয়।
তিনি তার দায়িত্বকালীন গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—সিআইডিতে মেডিকেল সেন্টার স্থাপন এবং তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রযুক্তিনির্ভর ও গতিশীল করার উদ্যোগ। তিনি জানান, ফরেনসিক ও এভিডেন্স-ভিত্তিক তদন্ত জোরদারে ৬টি রিজিওনাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং মেট্রোপলিটনসহ ৬৪ জেলায় মোট ৭৪টি ক্রাইম সিন ইউনিট স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে৷
এছাড়া, একটি “ওয়ান স্টপ কল সেন্টার” চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ থেকে শুরু করে সমাধান পর্যন্ত একটি সমন্বিত সেবা প্রদান সম্ভব হবে।
বিদায়ী প্রধান নবাগত সিআইডি প্রধানকে সিআইডিকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকনিক্যালি সাউন্ড প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর জোর দেন। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ‘আউট অব দ্য বক্স’ চিন্তাভাবনা নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন এবং জানান যে, তার স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তাকে বিদেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া আরও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরিশেষে তিনি নবাগত প্রধানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বে সিআইডি আরও এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি সকল সদস্যকে নতুন নেতৃত্বকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে দায়িত্ব পালনকালে সিআইডির উন্নয়ন কার্যক্রমে অব্যাহত সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস ব্যক্ত করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ সিআইডির বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাগণ সশরীরে উপস্থিত ছিলেন এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাগণ অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন।
-

আদিতমারীতে দলিল লেখক সমিতি নির্বাচনে সভাপতি মোজাম্মেল হক ,সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম রিপন
লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার সাব- রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক সমিতির নির্বাচন ২৪ শে মার্চ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দলিল লেখক সমিতির নির্বাচন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে ভোটের মাধ্যমে প্রার্থীগণ বিজয়ী হয়েছেন ৯ জন্য সদস্য। আদিতমারী উপজেলা সাব-রেজিস্টার মোছাঃ শিউলী খাতুন ভোট গণনা শেষে বিজয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। যে সকল দলিল লেখক নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন তাদের মধ্যে সভাপতি পদে আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি, মোঃ মোজাম্মেল হক, সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন, জনতা দলের আদিতমারী উপজেলা শাখার তরুণ উদীয়মান নেতা তারিকুল ইসলাম রিপন। কোষাধক্ষ্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ রবিউল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন, আবুল কালাম মাসুদ, দপ্তর সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ বাবুল মিয়া, কার্যকারী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন, মোঃ রাসেল খান, আব্দুর রহমান সবুজ, আজিজুল ইসলাম, দিলীপ কুমার রায় প্রমুখ নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নাজমুল হক ।