সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শেরপুরের কৃতি সন্তান ডা. আসাদুজ্জামানের চিকিৎসা সেবায় সকল নাগরিক ও রোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গোয়ালন্দে সোয়া কোটি টাকার সড়কে দুই মাসেই ধস, নিম্নমানের কাজের অভিযোগ রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার সহ ৭ কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্ণীতির মামলা দুই মাসের মধ্যে রংপুর মেডিকেল সার্বিক পরিবর্তন আনা হবে- দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী সরকার ও বিএনপিতে বড় রদবদলের আভাস ১০লাখ টাকার ড্রেন নির্মানের ৭ দিনের মধ্যেই ভেঙ্গে বন্ধ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নকলা পৌরসভা নির্বাচন প্রার্থীদের প্রচারণা শুরু রামগড় ৪৩ বিজিবির উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ আদিতমারী বুড়ির হাটের সরকারি জায়গা সিন্ডিকেটের দখলে, অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে চলছে হাট-বাজার, দ্রুত প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া দাবি বাজারের কতৃপক্ষের।

পড়াশোনার পাশাপাশি পেঁপে চাষে সফল উদ্যোক্তা রাজবাড়ীর আরিফুল

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৫০ সময় দেখুন
পড়াশোনার পাশাপাশি পেঁপে চাষে সফল উদ্যোক্তা রাজবাড়ীর আরিফুল

রাজবাড়ীর পাংশা সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম। কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই তার কৃষির প্রতি ছিল ঝোঁক। স্বপ্ন দেখতেন কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণে পড়ালেখার পাশাপাশি ইউটিউব দেখে পরিবারের সহযোগিতায় ৪০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে শুরু করেছেন পেঁপে চাষ।

শুরুতে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ঢাকা ও রংপুর থেকে বীজ সংগ্রহ করে নিজ বাড়িতে তৈরি করেন চারা। এর পর ৪০ শতাংশ জমিতে রোপণ করেন দেশী জাতের ৩শ পেঁপের চারা।

এর সে সাথী ফসল হিসেবে রোপণ করেছেন টমেটো। এখন আরিফুল তার বাগান থেকে সপ্তাহে ৩ দিন কাঁচা ও পাকা পেঁপে তোলে। এসব পেঁপে পাংশা ও রাজবাড়ী শহর ছাড়াও কুষ্টিয়া জেলা শহরে বিক্রি করে থাকেন। আরিফুল রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নের বউ বাজার এলাকার মো: আব্দুল গফুর এর ছেলে। সে পাংশা সরকারি কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

মো: আব্দুল গফুর বলেন, আমার ছেলে ছোট বেলা থেকে মেধাবী। তবে আমরা কৃষক অনেক দূর লেখাপড়া করানোর মতো সামর্থ্য নাই। তাই আরিফুল একাধিকবার চাকরির জন্য চেষ্টা করছে। তবে চাকরি না পেয়ে আমাকে ছেলে বলে কৃষি কাজ করবে। আমি জানি কৃষি কাজে কতটা কষ্ট তাই প্রথম দিকে রাজি ছিলাম না। ছেলের জেদের কাছে হার মানতে হয়। পরে ৪০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে দিয়েছি। প্রথমে আরিফুল আমাকে বলে পেঁপে চাষ করবে। আমি বাধা দিয়েছিলাম। আমি জানি বেশিরভাগ গাছ পুরুষ হয়, আর তাতে ফল আসে না। তবে আরিফুল আমাকে বলে বিদেশি জাতের বীজ থেকে চারা তৈরি করবে। এই চারা পুরুষ হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এখন প্রতিটি গাছেই ফুল ধরেছে। আমি নিজেই ওর কাজে সহযোগিতা করি।আমি পাংশা শহরে নিয়ে বিক্রি করি। বেশিরভাগ পেঁপে কুষ্টিয়া শহরে পাঠানো হয়।

উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, ছোট বেলা থেকে আমার কৃষি কাজের প্রতি আগ্রহ ছিলো। এইচএসসি পরীক্ষার পর থেকে চাকরির চেষ্টা করছি। চাকরি না হওয়ায় ইউটিউব দেখে আগ্রহ জাগে পেঁপে চাষে। পেঁপে চাষ শুরুর আগে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নেই। তারা আমাকে উন্নত জাতে বীজ সংগ্রহ করে নিজে চারা তৈরি করতে বলে। পরে ঢাকা ও রংপুর থেকে ৬ প্যাকেট বীজ সংগ্রহ করে বাড়িতে চারা তৈরি করি। প্রথমে ৩০০ চারা রোপণ করছিলাম। তবে সেখান থেকে ৮০ পিচ চারা রাতের অন্ধকারে চুরি করে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে অন্য রাজশাহী থেকে চারা এনে রোপণ করেছিলাম। চারা রোপণের মাত্র ৩ মাস পর থেকে প্রতিটি গাছে ফল ধরতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, তার জমি লিজ ও চারা রোপণ পরিচর্যা করতে মোট ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। এখন অব্দি লক্ষাধিক টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন। এখনো পরিমাণ ফল আছে গাছে তাতে আরও ৭০-৮০ হাজার টাকা বিক্রি করা যাবে। আগামীতে আরও বেশি জায়গা নিয়ে পেঁপে চাষ করবেন বলে জানান তিনি।

পাংশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আরিফুলের সাফল্য একটি উদাহরণ। সে প্রথমেই ৪০ শতাংশ জমিতে পেঁপে চাষ করে লাভবান হয়েছেন। এখন থেকে সে লক্ষাধিক টাকার বেশি মুনাফা লাভ করেছে। তিনি আরও বলেন, তরুণ শিক্ষিত যুবকেরা বিদেশ না গিয়ে কৃষিতে ফিরে এসে মাটির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারে তাহলে দেশে এগিয়ে যাবে। এতে করে আমদানি নির্ভরতা কমবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 রংধনুটিভি
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD