সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরল, ভাঙা ভাঙা বাচনভঙ্গিতে নিজের এলাকার নানা সমস্যা তুলে ধরে ভাইরাল হওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাজু ২.০ ঘুরে গেলেন লালমনিরহাট। কখনো সরকারি দামের জিলাপি, কখনো দরিদ্র পুর নারায়ণপুর ইউনিয়নের বাস্তব চিত্র, আবার কখনো টলমল ইউনিয়নের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কষ্ট ও বঞ্চনার গল্প তুলে ধরার এক অদম্য ইচ্ছা তাকে আজ সারা বাংলাদেশে পরিচিত মুখ করে তুলেছে। তার এই যাত্রা প্রমাণ করে—মানুষের ইচ্ছাশক্তি দৃঢ় হলে তাকে দমিয়ে রাখা যায় না।
দারিদ্র্যের কারণে স্বল্পশিক্ষিত এই যুবক প্রথমদিকে নিজের এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা বলতে গিয়ে অনেক সময় ট্রলের শিকার হয়েছেন। তবে তিনি থেমে যাননি। বরং তার অগোছালো উপস্থাপনাই মানুষের কাছে বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। তিনি যে বার্তা সমাজের উচ্চস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তাজু এখন সফলতার মুখ দেখছেন। দেশের বিভিন্ন বড় মিডিয়া হাউস তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। তার অস্বচ্ছল জীবনে স্বস্তি আনতে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন—নগদ অর্থ সহায়তা থেকে শুরু করে বসতবাড়ি নির্মাণেও সহযোগিতা করা হয়েছে। পাশাপাশি তার নিজ এলাকায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
বর্তমানে তাজু একজন পরিচিত মুখ। অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের কনটেন্টের প্রচারণা বাড়াচ্ছেন।
সম্প্রতি রংপুরের গংগাচড়া থানার একটি জুয়েলারি দোকান উদ্বোধনের আমন্ত্রণে সেখানে যান তিনি। পরবর্তীতে কাজ শেষে লালমনিরহাট শহর ঘুরে দেখেন। এ সময় তাকে এক নজর দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড়ই বলে দেয়—তাজু এখন কতটা জনপ্রিয়।
একসময় অবহেলিত মানুষের কথা বলতে গিয়ে উপহাসের শিকার হওয়া সেই তরুণই আজ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন।