সাম্প্রতিক সময়ে বাউল শিল্পী আবুল সরকার আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি করেছে। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। খোদাদ্রোহী বক্তব্যকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমর্থন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অথচ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খোদাদ্রোহীর পক্ষ নিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন। দেশবাসী তার এই অবস্থান ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
আজ ২৮ নভেম্বর ২০২৫, শুক্রবার ঐতিহাসিক চরমোনাইর (অগ্রহায়ণ) বাৎসরিক মাহফিলে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সেক্রেটারি জেনারেল শেখ মাহবুবুর রহমান নাহিয়ানের সঞ্চালনায়, কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুরের সভাপতিত্বে আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মুহতারাম আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই)।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধারা দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে তারা বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে জাতীয় অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। কিন্তু দেশের এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ গোষ্ঠী সেই কষ্টার্জিত টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, লুটপাট ও অর্থপাচারের মাধ্যমে দেশের সম্পদ বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে দুর্নীতিবাজরা; বেগমপাড়া গড়ে তুলছে। দেশের মানুষ দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও চাঁদাবাজদের আগামীতে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না।
বিশেষ অতিথি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমদ বলেন, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আদর্শিক জনশক্তি তৈরি করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাহাবাদের অনুসরণই ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য থেকে আমাদের এক চুলও সরে যাওয়া যাবে না। সাহাবাদের চরিত্রে নিজেদের গড়াই ছাত্রসমাজের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। যেভাবে ছাত্রসমাজ স্বৈরাচার পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, সেভাবেই আগামী দিনে দেশ গঠনে তাদের দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর বলেন, বিগত ৫৪ বছরে শিক্ষার্থী-বান্ধব কোনো সরকার আমরা পাইনি। যার ফলে শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালনার পরিবর্তে তাদেরকে সন্ত্রাস চর্চা ও বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত করা হয়েছে। যারা দলীয় স্বার্থে শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংস করেছে-আমরা সামনের দিনে এমন সরকার আর চাই না। আমরা এমন একটি সরকার গড়ে তুলতে চাই, যারা শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের জন্য কাজ করবে এবং তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেবে।
গণজমায়েতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম. হাসিবুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শরিফুল ইসলাম রিয়াদ।
এছাড়া কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুনতাছির আহমাদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ইমরান হোসাইন নূর, খায়রুল আহসান মারজান, সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক হোসাইন ইবনে সারওয়ার, দাওয়াহ ও দফতর সম্পাদক ইবরাহীম খলিল, তথ্য গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্পাদক ফয়জুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।